জিয়ার সমাধিতে নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তি, ধাক্কা খেলেন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৬:৩৬
ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম এবং অপর একটি সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক, ধস্তাধস্তি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনও ধাক্কা খেয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এক পুলিশ সদস্য তাকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
অবশ্য প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে, তিনি সেখানে মধ্যস্থতা করে দিয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (২৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন জিয়াউর রহমানের সমাধি এলাকায়। নবনিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরপরই উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে হঠাৎ বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের প্রেস কর্মকর্তা মাহফুজ কবির মুক্তা একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি গণমাধ্যমে পাঠান। সেখানে সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো তথ্যকে ভুল ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
যদিও এই ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কালো ব্লেজার গায়ে ও চোখে সানগ্লাস পরিহিত প্রতিমন্ত্রী বিক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের নিবৃত করার চেষ্টা করছেন। সবাই একই দলের তাই এখানে মারামারি করা যাবে না, এমন কথাও বলছেন। কিন্তু এর মধ্যে হঠাৎ একটি ধাক্কা লেগে তার পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পাশ থেকে দাঁড়ানো একজন পুলিশ সদস্য তাকে ঝাঁপটে ধরে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করলে তাকেও ইশরাক হোসেন কড়া ভাষায় কিছু একটা বলছেন বলে ভিডিওতে দেখা গেছে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর দফতর থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, হাতাহাতি ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন নিজে এগিয়ে যান। বিবাদমান দুই পক্ষকে শান্ত করতে এবং অবরুদ্ধ রাস্তায় যান চলাচল স্বাভাবিক করতে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরাসরি সহযোগিতা করেন।
প্রেস কর্মকর্তা জানান, যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে প্রতিমন্ত্রী দুই পক্ষের মাঝখানে দাঁড়িয়ে দূরত্ব বজায় রাখার ব্যবস্থা করেন এবং পরবর্তীতে তাদের সেখান থেকে স্থান ত্যাগের নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর দফতরের দাবি, একটি নির্দিষ্ট মহল ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিকে কেন্দ্র করে প্রতিমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পেছনে কারো উসকানি বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে জনগণকে কোনো ধরনের গুজবে কান না দিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
ইউডি/রেজা

