বিকাশ, রকেট ও নগদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ কেন বেআইনি নয়: হাইকোর্ট
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার (২৬ জুলাই) ২০২৬, আপডেট ২৩:১৫
গ্রাহকের লেনদেনের বিপরীতে মোবাইলে আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ, রকেট ও নগদের অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ আরোপ এবং ভোক্তা সুরক্ষা-জবাবদিহি নিশ্চিতের লক্ষ্যে নির্দিষ্ট ‘মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের বিষয় বিবেচনা প্রশ্নে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট।
এক রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এ রুল দেন।
রুলে বিকাশ, রকেট ও নগদের আরোপিত স্বেচ্ছাচারী ও অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জ কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক ও ২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানের পরিপন্থী ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে সার্ভিস চার্জ নিয়ন্ত্রণ এবং যুক্তিসংগত, ন্যায্য ও সাশ্রয়ী মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গ্রাহক সুরক্ষা ও কার্যকর জবাবদিহি ব্যবস্থা প্রবর্তনে নির্দিষ্ট ‘মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস আইন’ প্রণয়নের বিষয়টি বিবেচনা করতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সে বিষয়েও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে। অর্থসচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগসচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরসহ বিবাদীদের চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন আবেদনকারী হয়ে ১০ জুলাই রিটটি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে তিনি নিজেই শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আবদুস সামাদ আজাদ।
২০২২ সালের বাংলাদেশ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রবিধানমালার মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং পরিচালিত হয়ে আসছে বলে জানান আইনজীবী মো. ওবাইদুল্যাহ আল মামুন। তিনি বলেন, ব্যাংকের ক্ষেত্রে লেনদেনের বিপরীতে নির্দিষ্ট হারে (অঙ্কে) চার্জ নেওয়া হয়। অন্যদিকে বিকাশ, রকেট ও নগদ শতকরা হিসাবে এই চার্জ নিচ্ছে। ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে লাখ টাকা লেনদেনে সাধারণত ১০ টাকা খরচ হয়। তবে বিকাশ, নগদ ও রকেট অ্যাপ থেকে অন্য ব্যাংকে লেনদেনে প্রতি হাজারে ১০ টাকা করে অর্থাৎ এক লাখ টাকায় এক হাজার টাকা সার্ভিস চার্জ দিতে হয়।
ইউডি/এবি

