পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে নির্বাচনি সহিংসতা, ৩০ জনের বেশি নিহতের দাবি
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৬:৫৮
পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে আঞ্চলিক পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৩০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে নিষিদ্ধ ঘোষিত আন্দোলনকারী সংগঠন জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি)। একই সঙ্গে ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।
তবে পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তাদের ভাষ্য, সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনীর একজন সদস্য নিহত এবং আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন।
গত ২৭ জুলাই অনুষ্ঠিত প্রথম দফার ভোটের পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নির্বাচন বয়কট করে জেএএসি বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করে।
বুধবার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় জেএএসি নেতা সরদার উমর নাজির দাবি করেন, ভোটের দিন (সোমবার) একটি মিছিলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সংগঠনের ২০ জন সমর্থক নিহত হন। তাঁর অভিযোগ, পরদিন রাওয়ালাকোট, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় চলমান বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচিতে আরও অন্তত ১০ জন নিহত হন।
নাজির বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল শান্তিপূর্ণ। আমরা আন্দোলনকে অহিংস রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এর জবাবে গুলি চালানো হয়েছে।’
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি বলেছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত হওয়া জরুরি।
সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান এসিএলইডি’র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক পিয়ার পান্ডিয়া বলেন, পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরে নির্বাচনের সময়কার সহিংসতা পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
প্রথম দফায় মিরপুর, কোটলি ও ভিম্বর জেলার ১৩টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়। আগামী ২ আগস্ট ও ১০ আগস্ট আরও দুই দফায় ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম দফায় পাকিস্তানের ক্ষমতাসীন দল পিএমএল-এন ১৩টির মধ্যে ৯টি আসনে জয় পেয়েছে।
জেএএসি নিষিদ্ধের পর থেকেই উত্তেজনা
গত জুনে স্থানীয় সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর পর থেকেই অঞ্চলজুড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
অস্থিরতার কারণে ব্যাংকিং সেবা, সড়ক যোগাযোগ ও ইন্টারনেট কার্যক্রম ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এতে অঞ্চলটি থেকে তথ্য সংগ্রহও কঠিন হয়ে পড়েছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দাবি, আন্দোলনে ভারত-সমর্থিত সশস্ত্র ব্যক্তিরা যুক্ত হয়েছে। তবে ভারত অতীতের মতো এবারও এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, জেএএসিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও তা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের যৌক্তিকতা তৈরি করে না। একই সঙ্গে সংস্থাটি অঞ্চলটিতে যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক করা এবং গণমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের অবাধ প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে ১২টি সংরক্ষিত আসন
নির্বাচন ঘিরে জেএএসির অন্যতম প্রধান দাবি, কাশ্মীরি শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আইনসভা আসন বাতিল করতে হবে।
সংগঠনটির অভিযোগ, পাকিস্তানের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এসব আসনকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় আইনসভার ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের অনুকূলে নিয়ে যায়। কারণ, এসব আসনের অধিকাংশ প্রতিনিধিই পাকিস্তানশাসিত কাশ্মীরের বাইরে বসবাস করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক হাসান আসকারি বলেন, আঞ্চলিক সরকার গঠনের জন্য পিএমএল-এনকে সম্ভবত ওই ১২ প্রতিনিধির সমর্থনের ওপর নির্ভর করতে হবে। কিন্তু সরকার যদি বিতর্কিত এসব আসনের সমর্থনেই টিকে থাকে, তাহলে এ বিরোধের টেকসই সমাধান করা কঠিন হবে।
এদিকে ভোটে অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলও নির্বাচনি অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে। ব্যালট বাক্স ছিনতাই ও ভোট কারচুপির অভিযোগে তারা একে অপরকে দায়ী করছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
ইউডি/রেজা

