কাল থেকে জিপিএস ছাড়া চলবে না গণপরিবহন

কাল থেকে জিপিএস ছাড়া চলবে না গণপরিবহন

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, আপডেট ১৫:৫৭

দেশের সড়ক পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) থেকে সব গণপরিবহনে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযোজন ও সচল রাখা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। নতুন নিবন্ধন এবং ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রে জিপিএস সংযোজনের প্রমাণপত্র ও এর কার্যকারিতা প্রদর্শন করতে হবে।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জিপিএস সংযুক্ত ও সচল না থাকলে কোনো গণপরিবহনের নতুন নিবন্ধন দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ফিটনেস সনদ ইস্যু বা নবায়নও করা হবে না। এ বিষয়ে পরিবহন মালিক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

দেশের সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যাত্রী তোলাকে কেন্দ্র করে বাসের রেষারেষি, যেখানে-সেখানে থেমে যাত্রী ওঠানামা এবং একাধিক লেন দখল করে যানবাহন দাঁড় করানোর মতো নানা অনিয়মের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনা বাড়ছে। এসব সমস্যা নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদারের অংশ হিসেবে জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির সঙ্গে জিপিএস সংযোজনের বিষয়ে ইতোমধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তবে ১ আগস্ট থেকেই সব গণপরিবহনে এটি শতভাগ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে না। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কিছু সময় লাগবে।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, নতুন কোনো যানবাহন নিবন্ধনের জন্য এলে সেটিতে অবশ্যই জিপিএস সংযুক্ত থাকতে হবে। একইভাবে ফিটনেস সনদ নবায়নের ক্ষেত্রেও জিপিএস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য বিআরটিএ নিজস্ব প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাও গড়ে তুলছে, যাতে সহজেই নিশ্চিত হওয়া যায় কোনো যানবাহনে জিপিএস সংযুক্ত ও সচল রয়েছে কি না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই উদ্যোগ সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনে জিপিএস সংযোজন কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ জন্য প্রযুক্তির পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার, কঠোর তদারকি এবং আইন প্রয়োগের ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তাঁরা।

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, শুধু প্রযুক্তি ব্যবহার করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না। প্রযুক্তির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে। সুশাসনের সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো গেলেই এ উদ্যোগের সুফল পাওয়া সম্ভব হবে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading