উত্তপ্ত চার ক্যাম্পাস, সংঘর্ষ-হামলায় আহত শতাধিক
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার (০৪ আগস্ট) ২০২৬, আপডেট ২৩:০০
হামলা, পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তপ্ত ঢাকার তিনটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা কলেজ, সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার (আলিয়া মাদ্রাসা) ক্যাম্পাসে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে। মঙ্গলবার ছাত্রদল-ছাত্রশিবির ও ছাত্রশক্তির মধ্যে এ সংঘর্ষে অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। ঢাকার বাইরেও বরিশালে বিএম কলেজ ক্যাম্পাসও অশান্ত হয়ে উঠে। এছাড়া গতকাল সোমবার রাতে সংঘর্ষের পর মঙ্গলবারও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ক্যাম্পাস ছিল থমথমে।
মঙ্গলবার যেসব ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ হয়েছে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের সামনে পুলিশ সদস্যদের সতর্ক অবস্থান ছিল। ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা কবি নজরুল কলেজ ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নেন। তবে ছাত্রশিবিরের কাউকে দেখা যায়নি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার পর চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য উভয় পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উদ্যাপন উপলক্ষে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত সেমিনারে প্রবেশকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলে। এতে সেখানে পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও আহত হন। গুরুতর আহত কয়েকজনকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের জেরে ন্যাশনাল মেডিকেলে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন শিবির ও ছাত্র শক্তির নেতাদের ওপর হামলা করেছে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের মহানগর দক্ষিণের নেতাকর্মীরা। এর আগে দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় মিলনায়তন, শহীদ মিনার ও বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল ইনস্টিটিউট হাসপাতাল এলাকায় সংঘর্ষ হয়।
এদিকে ঢাকা কলেজে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে মারামারি ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। মঙ্গলবার বেলা তিনটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
ইউডি/এবি

