রুশ পারমাণবিক আইসব্রেকারে উত্তর মেরু অভিযানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী প্রত্যয়

রুশ পারমাণবিক আইসব্রেকারে উত্তর মেরু অভিযানে বাংলাদেশী শিক্ষার্থী প্রত্যয়

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৭:৫৭

রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার ‘ফিফটি লেট পোবেডি’-তে চড়ে উত্তর মেরুতে এক বিরল বৈজ্ঞানিক অভিযানে অংশ নিচ্ছে রাজশাহী ক্যাডেট কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র মো. মালেকুল সালেহীন (প্রত্যয়)।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা রসাটম-এর সহায়তায় আয়োজিত আন্তর্জাতিক অন্যান্য ২১টি দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রত্যয় অভিযানে গিয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রোসাটমের এক প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

সম্প্রতি মুরমানস্ক-এ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অভিযানের সূচনা হয়। ১০ দিনব্যাপী এই অভিযানে আইসব্রেকার জাহাজের ক্যাপ্টেন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রুসলান সাসোভ। যাত্রাপথে অংশগ্রহণকারীরা ব্যারেন্টস সাগর পাড়ি দিয়ে উত্তর মেরু এবং ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ হয়ে আবার মুরমানস্কে ফিরে আসবে।

মাল্টি-স্টেজ ‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রতিযোগিতার সপ্তম আসরের অন্যতম বিজয়ী হিসেবে প্রত্যয় এই সুযোগ অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ব্রাজিল, কাজাখস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, তুরস্ক ও ভিয়েতনামসহ ২২টি দেশ থেকে ৫ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছিল।

যাত্রার পূর্বে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রত্যয় বলেন, “এটি আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ একটি দিন। আমি কখনোই কল্পনা করিনি যে একদিন আমি উত্তর মেরুতে ভ্রমণ করব। বাংলাদেশ থেকে আর্কটিক অঞ্চলের দূরত্ব বিশাল। আমি এই অভিযান নিয়ে ভীষণভাবে এক্সাইটেড। এই অসাধারণ যাত্রায় নিজের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমি গর্বিত।”

এ বিষয়ে রসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে বলেন, “আর্কটিক হলো এমন একটি স্থান যেখানে সবচেয়ে উদ্ভাবনী ধারণাগুলো জন্ম নেয়।”

তিনি আরও বলেন, এই অভিযান এমন সব প্রতিভাবান তরুণদের একত্র করেছে যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ গঠনে সাহায্য করবে। তিনি উল্লেখ করেন, রাশিয়ার অনন্য পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার বহর শিক্ষার্থীদের এমন কিছু প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ করে দেয় যা অন্য কোথাও পাওয়া যায় না; একইসঙ্গে এটি বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও পরিবেশ রক্ষায় অবদান রাখতেও তাদের অনুপ্রাণিত করে।

অভিযানকালে অংশগ্রহণকারীরা পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকারের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ, আর্কটিক পরিবেশ অন্বেষণ এবং আর্কটিকের নৌচলাচলে পারমাণবিক প্রযুক্তির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে পারবেন। তারা পারমাণবিক, সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞদের লেকচার এবং তাদের দ্বারা পরিচালিত বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, কর্মশালা, আলোচনা, ক্যারিয়ার গাইডেন্স সেশন এবং সৃজনশীল কার্যক্রমেও অংশ নেবেন। এই অভিযানের একটি প্রতীকী আকর্ষণ হবে শিক্ষার্থীরা ভৌগোলিক উত্তর মেরুতে (৯০° উত্তর) নিজ নিজ দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা।

প্রোগ্রামে বিশেষ অতিথি হিসেবে রয়েছেন রাশিয়ান সায়েন্স ফিকশন লেখক সের্গেই লুকিয়াওনেঙ্কো, যিনি একটি সহযোগিতামূলক সৃজনশীল লেখার কর্মশালা পরিচালনা করবেন। শিক্ষার্থীদের যৌথভাবে লেখা কল্পবিজ্ঞানের গল্পটি অভিযানের পর প্রকাশিত হবে।

‘আইসব্রেকার অব নলেজ’ প্রকল্পটি বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রতিভাদের শনাক্ত ও পরিচর্যা করার পাশাপাশি ১৪ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং পারমাণবিক শিক্ষার প্রসার ঘটায়। এর আগের ছয়টি আসরে, এই প্রোগ্রামটি সারা বিশ্ব থেকে ৪০০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে উত্তর মেরুতে শিক্ষামূলক অভিযানে নিয়ে গেছে।

বিশ্বের একমাত্র দেশ হিসেবে রাশিয়া পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার বহর পরিচালনা করে। রসাটমের প্রতিষ্ঠান এফএসইউই অ্যাটমফ্লট দ্বারা পরিচালিত এই বহরে বর্তমানে আটটি পারমাণবিক শক্তিচালিত আইসব্রেকার রয়েছে। এগুলো নর্দান সি রুট বরাবর নৌচলাচলে সহায়তা করে, যা পশ্চিম ইউরেশিয়া এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত সামুদ্রিক পথ।

ইউডি/রেজা/রহমান

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading