বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখছিলেন সরকারি চিকিৎসক, হাতেনাতে ধরলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৮:৫৯
সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালনের বদলে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখার অভিযোগে পুরান ঢাকার ইংলিশ রোডে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালিয়ে এক সরকারি চিকিৎসককে হাতেনাতে ধরেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ঘটনাস্থলেই ওই চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল ও সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন মন্ত্রী।
নরসিংদীর বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মইনুল হাসান চিশতীকে সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে রোগী দেখার অভিযোগে হাতেনাতে আটক করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে পরিচালিত এই অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তাদের সামনেই মন্ত্রী ওই চিকিৎসকের চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন (রেজিস্ট্রেশন) বাতিল এবং সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্তের নির্দেশ দেন।
অভিযান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান একাধিকবার ডা. মইনুল হাসান চিশতীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি কোনো নির্দেশনা মানেননি। সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন না করে নিয়মিত পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখছিলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, অভিযানে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই চিকিৎসক সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন—এমন একটি ভুয়া পদত্যাগপত্র (ফেক রেজিগনেশন লেটার) ব্যবহার করে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারও ওই পদত্যাগপত্রের সত্যতা যাচাই না করেই তাকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার সুযোগ দিয়েছে। ফলে শুধু চিকিৎসক নন, প্রতিষ্ঠানটিরও দায় রয়েছে।
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এই চিকিৎসক অনৈতিক কাজ করেছেন, আর এতে এই হাসপাতাল সহযোগিতা করেছে। তাঁর চিকিৎসক হিসেবে নিবন্ধন বাতিল এবং সরকারি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে। একই সঙ্গে পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানের সময় উপস্থিত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারি চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা বরদাশত করা হবে না। সরকারি হাসপাতালে জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ইউডি/রেজা/আবু সাইদ বিশ্বাস

