মোংলা ইপিজেডে পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন
উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৯:১০
মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) ‘জিনলাইট’ বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন লেগেছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কারখানার বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে এই আগুনের সূত্রপাত বলে ধারণা ফায়ার সার্ভিসের। তবে সময়মতো কয়েক হাজার শ্রমিক কারখানা ভবন থেকে নিরাপদে বেরিয়ে কোনো প্রাণহানি বা শারীরিক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও কারখানা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে প্রতিদিনের মতো জিনলাইট গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির ভেতরে কয়েক হাজার নারী-পুরুষ শ্রমিক কাজ করছিলেন। দুপুরের দিকে হঠাৎ কারখানার এক নম্বর প্লান্টের সপ্তম তলার এক কোণ থেকে তীব্র ধোঁয়া ও আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পান কর্মরত শ্রমিকরা। মুহূর্তের মধ্যে পুরো ভবনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনের ভেতরে থাকা সাইরেন বেজে ওঠে।
সাইরেনের শব্দ শুনে কারখানার ভেতরে থাকা কয়েক হাজার শ্রমিক সতর্কতার সঙ্গে ভবন ছেড়ে নিচে নেমে আসেন এবং রাস্তয় আশ্রয় নেন।
খবর পেয়ে মোংলা ইপিজেড এবং মোংলা ফায়ার সার্ভিসের ২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এরপর ফ্যাক্টরির নিজস্ব আগুন নির্বাপক প্রযুক্তি এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের সম্মিলিত ও আপ্রাণ প্রচেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এর আগেই ভেতর থাকা বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক, আমদানিকৃত মালামাল, সুতা এবং মূল্যবান যন্ত্রপাতি পুড়ে যায়।
এ বিষয়ে মোংলা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. এমরান হোসেন জানান, প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শ্রমিকরা দ্রুত ভবন থেকে বের হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কারখানার মালামাল পুড়ে কী পরিমাণ আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। কারখানা কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণ করার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি আরও জানান, জিনলাইট কর্তৃপক্ষ এতোটাই সচেতন, আমরা যাওয়ার আগেই প্রায় ৯০ শতাংশ আগুন নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে।
ইউডি/রেজা

