অভিনয় ছেড়ে কেন কৃষিকাজে মন দিতে চেয়েছিলেন ইয়ামি?
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ০৮:২০
বলিউডে স্বপ্নপূরণের যাত্রাটাই একসময় ছেড়ে দিতে বসেছিলেন অভিনেত্রী ইয়ামি গৌতম। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয় কিংবা ‘আর্টিকেল ৩৭০’ ও ‘হক’-এর মতো সিনেমায় অভিনয়ের জন্য প্রশংসিত হওয়ার অনেক আগে এমন অন্তর্দ্বন্দ্বে ভুগেছেন। তখন ভাবতে শুরু করেছিলেন—বলিউড কী আদৌ তার জন্য সঠিক জায়গা?
কিছুদিন আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়ের কথা বলেছেন ইয়ামি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, মুম্বাই ছেড়ে নিজ শহর হিমাচল প্রদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্তও প্রায় নিয়ে ফেলেছিলেন। ভাগ্য যদি শেষ মুহূর্তে তার পাশে না দাঁড়াত, তাহলে আজ সম্পূর্ণ অন্য এক জীবনযাপন করতেন ইয়ামি গৌতিম।
২০১২ সালে ‘ভিকি ডোনার’ সিনেমা দিয়ে বড়পর্দায় সাফল্যময় অভিষেকের পর কী ঘটেছিল, ফিল্মফেয়ারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাই জানিয়েছেন ইয়ামি গৌতম। মুক্তির পর সিনেমাটি সমালোচক ও দর্শক—দুই পক্ষের কাছ থেকেই ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। কেবল তাই নয়, বক্স অফিসেও দারুণ ব্যবসা করেছিল। এ সিনেমা সফল হওয়ার পরও মানুষের প্রতিক্রিয়া তাকে অবাক করেছিল। যদিও আশা করেছিলেন, একের পর এক সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাবেন। কিন্তু বাস্তবে তেমনটা ঘটেনি।
অভিনেত্রী হিসেবে মূল্যায়ন করার পরিবর্তে বারবার আলোচনা হতে থাকে ‘প্রচলিত ধারার বাইরে’ অভিষেক হয়েছে ইয়ামি গৌতমের। এসব তথ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ভিকি ডোনার’ যখন সফল হলো, তখন ভেবেছিলাম—‘মানুষ আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে দেখবেন।’ কিন্তু আমি শুনলাম, আমার অভিষেক ‘প্রচলিত’ ছিল না। আমি বিস্ময়ে ভাবতাম, এর মানে কী? পরে বুঝলাম, প্রচলিত নায়িকাদের যেভাবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়, আমাকে সেভাবে করা হয়নি।”
এই দৃষ্টিভঙ্গি ইয়ামির ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করবেন, তা বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে চাপ অনুভব করতে থাকেন। নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টা করতে গিয়ে এমন কিছু সিনেমায় অভিনয় করেন, যা নিয়ে ইয়ামি নিজেও পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন না। তার মনে হয়েছিল, সঠিক চরিত্রের অপেক্ষা করার চেয়ে নিয়মিত পর্দায় উপস্থিত থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যায় যে, ইয়ামি গৌতম অভিনয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
অভিনয় ছেড়ে বাড়ি ফিরে কৃষিকাজে মন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন ইয়ামি। তা স্মরণ করে তিনি বলেন, “উরি’ ও ‘বালা’ সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ পাওয়ার ঠিক আগে ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। ভেবেছিলাম, হিমাচলে ফিরে যাব। আমাদের পরিবারের কৃষিজমি আছে। আমি সম্পূর্ণ অন্যরকম একটি জীবন কল্পনা করেছিলাম। আমার বাবা-মা আমাকে অনেক সমর্থন করেছেন। তারা শুধু বলেছিলেন, ‘বাড়ি চলে আসো।”
‘উরি: দ্য সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ ও ‘বালা’ মুক্তির পর পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। দুটো সিনেমাই দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। রাতারাতি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন ইয়ামি। এ পরিস্থিতি তাকে নতুন উপলদ্ধি দেয়। তিনি বলেন, “ভয় আপনার সবচেয়ে বড় শত্রু। ‘চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল’—হওয়ার ভয়ে যেদিন ‘হ্যাঁ’ বলা বন্ধ করে দিলাম, সেদিন নিজেকে মুক্ত অনুভব করলাম। যে কাজ নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই, তা করার চেয়ে সরে আসব—এই সিদ্ধান্ত আমার সবকিছু বদলে দিয়েছে।”
এরপর প্রচলিত বলিউডি তারকাখ্যাতির পেছনে না ছুটে অর্থবহ ও শক্তিশালী চরিত্র বেছে নিয়ে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করেছেন ইয়ামি। ‘আ থার্সডে’, ‘ওএমজি টু’, ‘আর্টিকেল ৩৭০’, ‘হক’-এর মতো সিনেমায় এমন সব চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যার প্রতি তার নিজের আস্থা-বিশ্বাস রয়েছে।
২০২১ সালে অভিনেতা-পরিচালক আদিত্য ধরের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ইয়ামি গৌতম। তাদের সংসার আলো করে জন্ম নিয়েছে একটি পুত্রসন্তানও। ব্যক্তিগতজীবনের নতুন অধ্যায় উপভোগ করার পাশাপাশি অভিনয়েও সমানভাবে সক্রিয়। নিজের পছন্দের শক্তিশালী গল্প ও চরিত্র নিয়ে কাজ করছেন। এখন তার হাতে একটি সিনেমার কাজ রয়েছে।
ইউডি/কেএস

