ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে গুপ্তহত্যার হুমকির তথ্য দিয়েছিল ইসরায়েল

ট্রাম্পকে প্রভাবিত করতে গুপ্তহত্যার হুমকির তথ্য দিয়েছিল ইসরায়েল

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১১:৩০

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গুপ্তহত্যার হুমকি সম্পর্কিত তথ্যটি সরবরাহ করেছিল ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। তবে এই গুপ্তহত্যার হুমকি নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারা সন্দিহান ছিলেন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন পোস্ট এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

কর্মকর্তাদের একজন জানিয়েছেন, গুপ্তহত্যার হুমকিটি ইসরায়েলি সরকার সিআইএ-কে জানিয়েছিল, কিন্তু সেখানকার বিশ্লেষকরা এই গোয়েন্দা তথ্যকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করেননি এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে সেই সন্দেহ প্রকাশ করেন।

আরেকজন কর্মকর্তা ট্রাম্পের জীবনের ওপর হুমকির খবরগুলোকে ‘ইসরায়েল-প্রসূত, মার্কিন-সৃষ্ট নয় এবং দুর্বল বিশ্বাসযোগ্যতার পরিচায়ক’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রেসিডেন্টের ওপর আসন্ন হুমকি নিয়ে কিছু মহলের সন্দেহ, গত মাসে হোয়াইট হাউসের নেওয়া একটি সিদ্ধান্তে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি প্রথম প্রকাশ করে ‘দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট’। সিদ্ধান্তটি ছিল, ৮ জুলাই তুরস্কের আঙ্কারায় একটি ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফেরার সময় ট্রাম্পের অবস্থান গোপন রাখা।

চলতি সপ্তাহে ‘দ্য পোস্ট’-এর প্রথম প্রতিবেদন অনুসারে, কাতারের উপহার দেওয়া নতুন ৭৪৭-৮ বিমানটিতে রাষ্ট্রপতিকে একটি সম্ভাব্য প্রতিকূল পরিবেশ থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেওয়ার পর ট্রাম্প আঙ্কারায় একটি পুরনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়েন। কিন্তু তিনি গোপনে সেই বিমানটি থেকে নেমে যান এবং বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে তাকে তৃতীয় একটি বিমানে, একটি এয়ার ফোর্স সি-৩২এ-তে, নিয়ে যাওয়া হয়। সেই বিমানটি তাকে এবং তার কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগীকে ব্রিটেনে পৌঁছে দেয়।

আমেরিকা কী ধরনের গোয়েন্দা তথ্য পেয়েছে বা মার্কিন কর্মকর্তারা সেটিকে কীভাবে দেখেছেন, সে বিষয়ে হোয়াইট হাউস বুধবার সরাসরি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়নি।

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে এই প্রতিবেদনের অন্যদের মতো নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক বিবৃতিতে একজন আমেরিকার কর্মকর্তা বলেন, “প্রেসিডেন্ট যেমনটা বলেছেন, তিনি ইরানসহ বিভিন্ন দিক থেকে আসা প্রাণনাশের অসংখ্য হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন সিক্রেট সার্ভিসের মূল লক্ষ্য হলো প্রেসিডেন্টকে সুরক্ষা দেওয়া, যা তারা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।”

একজন বর্তমান ও একজন প্রাক্তন মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, কিছু আমেরিকার গোয়েন্দা কর্মকর্তা মনে করেন যে, ট্রাম্পের জীবনের ওপর হুমকির বিষয়ে ইসরায়েলের সতর্কবার্তা জানানোর উদ্দেশ্য ছিল প্রেসিডেন্টকে অবহিত করার চেয়ে বরং তার সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং এই অঞ্চলে মার্কিন নীতিকে প্রভাবিত করা।

তিনি জানান, ইসরায়েল ইরানকে তার নিকট ভবিষ্যতের সবচেয়ে জরুরি হুমকি হিসেবে দেখে। কিন্তু দেশটি তুরস্ককে একটি মধ্যম থেকে দীর্ঘমেয়াদী হুমকি হিসেবে দেখে। ওয়াশিংটন ও আঙ্কারার মধ্যে উষ্ণ সম্পর্ক নিয়ে উদ্বিগ্ন তেল আবিব।

বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত প্রাক্তন কর্মকর্তা বলেন, এটি “ইসরায়েলি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের একটি বৃহত্তর ধারার সঙ্গে মিলে যায়, যা কিছু কর্মকর্তার মতে, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে অবহিত করার পাশাপাশি তাকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছিল।”

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading