চন্দনাইশের পেয়ারা দেশ পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে

চন্দনাইশের পেয়ারা দেশ পেরিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে

উত্তরদক্ষিণ। শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১০:০০

আকর্ষণীয় রঙ, অতুলনীয় স্বাদ আর দীর্ঘসময় সতেজ থাকার বিশেষ গুণে দেশজুড়ে খ্যাতি কুড়িয়েছে চট্টগ্রামের চন্দনাইশের ‘কাঞ্চন পেয়ারা’। তবে এই খ্যাতি এখন আর শুধু দেশের বাজারে সীমাবদ্ধ নেই। সুস্বাদু এই ফল কয়েক বছর ধরে পাড়ি জমাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। বিদেশের বাজারে রপ্তানি বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সংলগ্ন এলাকাতেই প্রধান উৎপাদন অঞ্চল হওয়ায় এর পরিবহন ব্যাবসাও হয়ে উঠেছে বেশ সুবিধাজনক।

বর্তমানে চন্দনাইশের হাশিমপুর, কাঞ্চননগর, ধোপাছড়ি, দোহাজারী, জামিজুরীসহ পাহাড়ি ও সমতল এলাকায় কাঞ্চন পেয়ারা বেশি হয়। একই সঙ্গে পটিয়া উপজেলার বিশাল পাহাড়ি এলাকাতেও এখন পেয়ারার ব্যাপক চাষ হচ্ছে। প্রতিদিন ভোর থেকেই বাগান ও স্থানীয় বাজারগুলোতে বেচাকেনা জমে ওঠে এবং ট্রাক-পিকআপে করে তা দেশের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ছে।

স্থানীয় কৃষক, ব্যবসায়ী ও রপ্তানিকারকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চন্দনাইশের উর্বর মাটি এবং অনুকূল আবহাওয়ায় উৎপাদিত কাঞ্চন পেয়ারা দীর্ঘদিন ধরেই সমাদৃত। বর্তমানে ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালী, সিলেট, খুলনা ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাইকাররা সরাসরি বাগান থেকেই পেয়ারা সংগ্রহ করছেন। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকদের মাধ্যমে যাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছ, চলতি মৌসুমে উপজেলার হাশিমপুর, জঙ্গল হাশিমপুর, ছৈয়দাবাদ, লট এলাহাবাদ, দোহাজারী ও ধোপাছড়ি এলাকার পাহাড় ও পাহাড়ের পাদদেশে ৭২০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা বাগান রয়েছে। চলতি মৌসুমে প্রায় ১১ হাজার টন পেয়ারা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে আগের তুলনায় কাঞ্চন পেয়ারার সামগ্রিক উৎপাদন কিছুটা কমেছে।

পেয়ারাচাষি আবদুল খালেক বলেন, কাঞ্চন পেয়ারা দেখতে সুন্দর, উৎপাদন ব্যয় কম। কিন্তু বাজারমূল্য ভালো পাওয়া যায়। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে ফলনও অনেক বেশি হয়। পাইকারি ব্যবসায়ী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, স্বাদ ও মানের কারণে ক্রেতাদের কাছে এই পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা আছে। বাজারে আনার পর অল্প সময়েই তা বিক্রি হয়ে যায়।

অর্থনীতিবিদ ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গ্রামীণ অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে এই ফল। কৃষিপণ্যের রপ্তানি বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হয়, অন্যদিকে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মস্থান ও কৃষকের আয় বাড়বে। আধুনিক চাষাবাদ ও রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে চন্দনাইশকে কৃষিপণ্য রপ্তানির একটি সম্ভাবনাময় হাব হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

চন্দনাইশ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আজাদ হোসেন বলেন, এই অঞ্চলের পেয়ারা আলাদা সুনাম অর্জন করেছে। কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

চাষীরা বলছেন, কাঞ্চন পেয়ারাকে রপ্তানিযোগ্য কৃষিপণ্য হিসেবে পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে উৎপাদন থেকে বাজারজাতকরণ পর্যন্ত- পুরো ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক মানের প্যাকেজিং ব্যবস্থা, সংরক্ষণ সুবিধা ও কোল্ড চেইন অবকাঠামোর ঘাটতির কারণে সম্ভাবনা অনুযায়ী রপ্তানি বাড়ানো যাচ্ছে না। চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মানসম্পন্ন শাকসবজি ও ফলমূল রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক মানের ‘প্যাকিং হাউস’ নির্মাণ করা গেলে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading