মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ ফুরিয়ে আসছে?

মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ ফুরিয়ে আসছে?

উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ০৯:০০

বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাস যে দুটি নামের স্বর্ণাক্ষরে রচিত হয়েছে, তাদের বিদায়ঘণ্টা কি তবে একসঙ্গেই বাজতে চলেছে? গত দুই দশক ধরে রেকর্ড বইয়ের পাতা নতুন করে লেখা দুই কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এবং লিওনেল মেসি খুব কাছাকাছি সময়ে অবসরের ইঙ্গিত দিয়েছেন। জীবন ও ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে এসে এই দুই মহাতারকার এমন স্বীকারোক্তি ফুটবল দুনিয়া জুড়ে গভীর শূন্যতা ও আবেগের সৃষ্টি করেছে। চার দিনের ব্যবধানে আসা এই দুটি খবর ভক্তদেরকে যেন সেই চরম সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলের এই সোনালি অধ্যায়ের সমাপ্তি এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

৪১ বছর বয়সী পর্তুগিজ ফরোয়ার্ড ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সম্প্রতি ফ্যাশন সাময়িকী ভোগ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্পষ্ট ও সরাসরি বক্তব্য রেখেছেন। আল নাসরের এই স্ট্রাইকার খোলামেলাভাবে স্বীকার করেছেন, পেশাদার ফুটবলে হয়তো এটাই তাঁর শেষ বছর। তিনি চান একটি চোখ ধাঁধানো ও অনন্য উত্তরাধিকার রেখে মাঠকে বিদায় জানাতে। কেরিয়ারের শুরুতে যেভাবে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ড্রিবলিং আর স্টেপওভারে পরাস্ত করতেন, জীবনের এই পর্বে এসেও রোনালদো একইভাবে সুনির্দিষ্ট ও দৃঢ় বক্তব্য রেখে ভক্তদের মাঝে এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম দিয়েছেন।

অন্যদিকে, ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টিনার জাদুকর লিওনেল মেসির কণ্ঠে ভেসে এসেছে এক ভিন্ন বেদনার সুর। সম্প্রতি পিতা হোর্হে মেসির প্রয়াণের পর সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় ইন্টার মায়ামির এই তারকা খেলায় নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা প্রকাশ করেন। জীবনের শুরু থেকে প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থাকা বাবাকে হারিয়ে মেসি লিখেছেন, ফুটবল খেলার পথচলায় যিনি সবসময় ছায়ার মতো ছিলেন, তাকে ছাড়া কতদিন আর এই মাঠে তিনি নিজেকে টেনে নিয়ে যেতে পারবেন তা তিনি জানেন না। বাবার এই আচমকা চলে যাওয়া মেসির ফুটবলীয় মনে বড় এক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

রোনালদো ও মেসির এই বিদায় ভাবনা হয়তো কোনো পরিকল্পিত কাকতালীয় ঘটনা নয়, কিন্তু ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই সংকেত অত্যন্ত গভীর। বিগত বিশ বছর ধরে তারা একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার যে লড়াই চালিয়েছেন, তা এল ক্লাসিকো থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল। রোনালদোর কঠিন সংগ্রাম, মাদেইরার দারিদ্র্য ও পিতৃশোক কাটিয়ে উঠে কঠোর পরিশ্রমে বিশ্বজয়ের গল্প যেমন অনুপ্রেরণাদায়ী, তেমনি মেসিকে বড় করে তুলতে ও তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতে বাবা জর্জের সেই ঐতিহাসিক নেপকিন চুক্তির লড়াইও ফুটবলের রূপকথার অংশ হয়ে আছে।

পেলের পর ম্যারাডোনা এসেছিলেন, ম্যারাডোনার পর মেসি-রোনালদোর উত্থান দেখেছে বিশ্ব। ভবিষ্যতে হয়তো আরও নতুন কোনো নক্ষত্রের জন্ম হবে ফুটবলের আঙিনায়, কিন্তু একই যুগে দাঁড়িয়ে দুই মহারথীর এমন সমান্তরাল শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই হয়তো আর কখনো দেখবে না খেলাধুলাপ্রেমীরা। সময়ের নির্মম নিয়মে দুই মহাতারকাই যখন আজ বুটজোড়া তুলে রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন কোটি কোটি সমর্থক স্মৃতিকাতর হয়ে শুধুই অনুভব করছেন; এক অভূতপূর্ব ও অবিস্মরণীয় যুগের অবসান ঘটতে চলেছে।

সূত্র: খালিজ টাইমস

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading