ল্যামোরের বিদায়ে ফিফা নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১১:৩৭
ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) কেভিন ল্যামোরের বিদায় ঘিরে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমন ও দুর্বল শাসনব্যবস্থার অভিযোগ তুলেছে মানবাধিকার ও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো।
ফিফা জানায়, ল্যামোর সংস্থা থেকে সরে গেছেন। এর কয়েক সপ্তাহ আগে বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক স্বত্বের অংশ বিক্রির বিষয়ে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পরিকল্পনার প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন তিনি।
ল্যামোর ২০২৪ সালের নভেম্বরে ফিফার শীর্ষ নেতৃত্বে যোগ দেন। এর আগে ২০১৬ সালে ইনফান্তিনোকে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত করতে প্রচারণা চালানো ঘনিষ্ঠ মহলের অংশ ছিলেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের বৈশ্বিক উদ্যোগবিষয়ক পরিচালক মিনকি ওয়ার্ডেন বলেন, ফিফার মতো প্রতিষ্ঠানে কেভিন ল্যামোরের মতো আরও বেশি ‘হুইসেলব্লোয়ার’ প্রয়োজন।
তিনি অভিযোগ করেন, ফিফার নিজস্ব মানবাধিকার নীতিমালা লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে ২০৩৪ সালের বিশ্বকাপ সৌদি আরবকে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি এটিকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই নেওয়া সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেন।
ওয়ার্ডেনের মতে, ল্যামোর ও তার দল মানবাধিকারকর্মী এবং নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ, ফিফার কার্যক্রমে ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সংস্থা ও তাদের সরকারি অংশীদারদের কারণে সৃষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলায় আন্তরিকভাবে কাজ করেছিলেন।
স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্সের নির্বাহী পরিচালক আন্দ্রেয়া ফ্লোরেন্সও ল্যামোরের বিদায়কে ফিফার সাংগঠনিক কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার আরেকটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন।
তিনি বলেন, আফগান নারী জাতীয় দলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়াসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে ল্যামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পাশাপাশি অন্যায়ভাবে কারাবন্দি ফুটবল সাংবাদিক ক্রিস্তফ গ্লেইজেসের মুক্তির দাবিতেও তিনি প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।
ফ্লোরেন্সের অভিযোগ, ল্যামোরের বিদায় ফিফার ভেতরে ভিন্নমত প্রকাশের বিষয়ে ‘ভীতিকর বার্তা’ দিচ্ছে। তার দাবি, এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নীরব থাকার চাপ তৈরি হতে পারে এবং ভিন্নমত সহ্য করা হবে না এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে।
শ্রমিক অধিকার সংগঠন বিল্ডিং অ্যান্ড উড ওয়ার্কার্স ইন্টারন্যাশনালের (বিডব্লিউআই) মহাসচিব অ্যামবেট ইউসনও ল্যামোরের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তার ভাষ্য, টুর্নামেন্টগুলোতে শ্রমিকদের অধিকার এগিয়ে নিতে বিডব্লিউআই ও ফিফার মধ্যে প্রথমবারের মতো চুক্তি স্বাক্ষরে ল্যামোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।
ইউসনের মতে, ল্যামোরের বিদায় ফিফার চলমান শাসনসংকট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর ফলে বিশ্ব ফুটবলের কেন্দ্রীয় সংস্থাটিতে মানবাধিকার সুরক্ষা আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে, ল্যামোরের বিদায় নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে ফিফার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউডি/কেএস

