২২ শিশু স্বর্গে সুবিধা বাড়াচ্ছে সরকার

২২ শিশু স্বর্গে সুবিধা বাড়াচ্ছে সরকার

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৩:৪৯

প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় কথা বলছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল

প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের চিকিৎসা, শিক্ষা ও চলাচলে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে দেশের ২২ জেলার ২২টি উপজেলায় ‘শিশু স্বর্গ’ প্রকল্পের আওতায় প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার পাশাপাশি রেলওয়ে ও মেট্রোরেলেও তাদের জন্য বাড়ানো হচ্ছে সুযোগ-সুবিধা।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রতিবন্ধী অধিকার ও সেবা সুরক্ষা বিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কমিটির সভায় এসব তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।

তিনি বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবাকে সরকার কোনো চ্যারিটি হিসেবে দেখছে না। এটি তাদের সাংবিধানিক ও নাগরিক অধিকার। অন্য সব নাগরিকের মতো প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাও যাতে সমান অধিকার ও সুযোগ পান, সে লক্ষ্যেই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, ঢাকার কড়াইল বস্তিতে প্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণ ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ইতোমধ্যে উদ্বোধন করা হয়েছে। এ উদ্যোগের পাশাপাশি দেশের ২২টি জেলার ২২টি উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মাধ্যমে প্রতিবন্ধী শিশু ও ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের যাতায়াতের সুবিধার কথা তুলে ধরে ড. এম এ মুহিত বলেন, বাংলাদেশ রেলওয়ের সব শ্রেণির ট্রেন এবং মেট্রোরেলে তাদের জন্য ২৫ শতাংশ ভাড়া ছাড় নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন নির্মিতব্য স্টেশনগুলোতে প্রতিবন্ধীবান্ধব অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

শুধু র‌্যাম্প নির্মাণের মধ্যে প্রতিবন্ধীবান্ধব পরিবেশ সীমাবদ্ধ না রেখে টিকিট সংগ্রহ, যানবাহনে ওঠা, চলাচল ও টয়লেট ব্যবহারের মতো প্রতিটি পর্যায়ে যাতে তারা নির্বিঘ্নে সেবা নিতে পারেন, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষায়িত বিদ্যালয়ের পাশাপাশি মূলধারার শিক্ষাব্যবস্থায় প্রতিবন্ধী শিশুদের অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিশেষায়িত বিদ্যালয়গুলোকে আরো সুসংগঠিত করার পাশাপাশি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ বিদ্যালয়গুলোকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, হুইলচেয়ার ব্যবহারকারী কোনো শিশু যেন অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে সাধারণ বিদ্যালয়ে পড়াশোনার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, তা নিশ্চিত করা হবে। এ জন্য পাঠ্যক্রমে প্রয়োজনীয় সংস্কার, ব্রেইল পদ্ধতির ব্যবহার এবং সংকেত ভাষার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়েও কাজ চলছে।

সভায় সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি ডিজিটাল সেবার প্রবেশগম্যতাও নিশ্চিত করা জরুরি। তথ্যপ্রযুক্তির এই সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোতেও তাদের সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রতিটি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ মেধা ও দক্ষতা রয়েছে। সেই দক্ষতাকে কাজে লাগানোর সুযোগ সৃষ্টি করে একটি মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সেবা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মন্ত্রণালয়কে সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading