বাউফলে পিআইও-এএসআইয়ের বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ, এলাকাবাসীর মানববন্ধন
উত্তরদক্ষিণ। রবিবার, ৩০ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৭:৫২
পটুয়াখালীর বাউফলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নাসির উদ্দিন ও পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) বসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে হয়রানি, অত্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।
রবিবার (৩০ আগস্ট) পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দারোগা বাড়ি এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা বিভিন্ন অভিযোগ তুলে বক্তব্য দেন। তারা দাবি করেন, এলাকার একাধিক ব্যক্তিকে বিভিন্ন সময় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। এর ফলে কয়েকটি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি, আতঙ্ক ও ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দারোগা বাড়ি এলাকার আব্দুর রহিম মৃধার ছেলে মো. আল-আমীনের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দিয়ে দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে হয়রানি করা হচ্ছে। তাদের দাবি, আল-আমীনের বিরুদ্ধে প্রায় ১০টি মামলা দেওয়া হয়েছে, যার কারণে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক, পারিবারিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
এছাড়া স্থানীয় একটি বিরোধের সালিশ-মীমাংসায় অংশ নিতে আসা আহাদুল ইসলাম টিপুর বিরুদ্ধেও মাদকসহ তিনটি মামলা দেওয়া হয়েছে বলে মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়। বিক্ষোভকারীদের দাবি, এসব ঘটনার প্রকৃত তদন্ত হলে অভিযোগের সত্যতা বেরিয়ে আসবে।
মানববন্ধনে বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, দারোগা বাড়ি এলাকার প্রায় ২০ থেকে ২৫ জন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এসব মামলার পেছনে ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রভাব বিস্তার কিংবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কোনো কারণ থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এলাকাবাসীর বক্তব্য, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব হচ্ছে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করা। কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ব্যক্তিগত বিরোধ বা অন্য কোনো কারণে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অনেক মানুষ বিভিন্ন অভিযোগ ও মামলাজনিত কারণে ভোগান্তিতে রয়েছেন। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে যদি কোনো ব্যক্তি নিরপরাধ প্রমাণিত হন, তাহলে তার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে বলেও দাবি জানান তারা।
মানববন্ধনে উপস্থিত কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, তারা কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অন্যায়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছেন না। বরং তাদের দাবি হচ্ছে—সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা হোক।
এ সময় মানববন্ধনে আঃ রহিম মৃধা, মো. আসাদুল, মো. ইসমাইল, মোসা. রহিমা বেগম ও জেরিন বেগমসহ এলাকার কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি দারোগা বাড়ি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
এ বিষয়ে পিআইও নাসির উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদেরকে সামাজিকভাবে ছোট ও হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য তারা এসব ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে।”
তবে এএসআই বসির উদ্দিনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
মানববন্ধন থেকে এলাকাবাসী দ্রুত অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। অন্যথায় ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও জানান আন্দোলনকারীরা।
স্থানীয়দের এই অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।
ইউডি/রেজা/রুবেল

