বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে নিয়ে উধাও সাবেক প্রেমিক

বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূকে নিয়ে উধাও সাবেক প্রেমিক

উত্তরদক্ষিণ। সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, আপডেট ১৫:৪০

বিয়ে শেষে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীর মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে ভাঙচুর চালানোর পর নববধূকে জোরপূর্বক নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একদল যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে নববধূর সাবেক প্রেমিকও রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

রবিবার (৩০ আগস্ট) রাতে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার (২৮) বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা।

পথে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং গাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। একপর্যায়ে নববধূ তামান্না আক্তারকে জোরপূর্বক গাড়ি থেকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

ঘটনার পর তামান্নার সঙ্গে অভিযুক্ত যুবক আতিকুর রহমান মিয়াদের কথিত পূর্বপরিচয়ের বিষয়টি সামনে আসে। স্থানীয়দের দাবি, তামান্নার সঙ্গে আতিকুরের দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে তাদের এই সম্পর্ক মেনে নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আগেও আলোচনা ছিল বলে কয়েকজন জানান।

ঘটনার পর আতিকুর রহমান মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!” ওই পোস্ট নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম বলেন, ওই তরুণীর সঙ্গে অভিযুক্ত যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

ওসি আরও বলেন, “নববধূকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং কীভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মেয়ের পরিবার লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদ উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের চর হাজিপুর গ্রামের মজিবুরের ছেলে। তিনি স্থানীয়ভাবে ছাত্রদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত বলে জানা গেছে।

তবে নববধূকে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় কারা জড়িত, কীভাবে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, ঘটনার সময় সেখানে কতজন উপস্থিত ছিলেন এবং এর পেছনের প্রকৃত কারণ কী—এসব তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঘটনাটি নিয়ে নববধূর পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading