ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একক বন্দিশালায় না রাখার নির্দেশ
উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৩:৫০
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান এবং তার স্ত্রী বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে না রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ইসলামাবাদ হাইকোর্ট।
সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি খাদিম হুসেইন সুমরো এ নির্দেশ দেন। কারাগারে ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে একাকী বন্দিত্বে রাখা হয়েছে এমন অভিযোগে করা পৃথক দুটি আবেদনের নিষ্পত্তি করতে গিয়ে আদালত এ নির্দেশ দেন। খবর সামা টিভির।
ইমরান খানের বোন আলিমা খান তার ভাইকে একাকী বন্দিত্বে রাখার অভিযোগ তুলে আদালতে আবেদন করেন। অন্যদিকে বুশরা বিবির পক্ষে আবেদন করেন মুবাশারা খাওয়ার মানেকা।
রায়ে আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেন, ইমরান খান ও বুশরা বিবিকে কোনো অবস্থাতেই একাকী বন্দিত্বে রাখা যাবে না। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
কারা বিধিমালা অনুযায়ী ইমরান খান ও বুশরা বিবির মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থাও করতে বলেছেন আদালত। পাশাপাশি ইমরান খান যেন তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী সাক্ষাৎ করতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইমরান খানকে তার দুই ছেলের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তবে এসব কথোপকথনের রেকর্ড রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করা হলে ওই ফোনালাপের সুবিধা প্রত্যাহার করা যেতে পারে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালত কারা কর্তৃপক্ষকে ইমরান খানকে প্রতিদিন সংবাদপত্র ও বই সরবরাহেরও নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি কারা বিধিমালা অনুযায়ী তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
এসব নির্দেশনা বাস্তবায়নের পুরো দায়িত্ব আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টের ওপর ন্যস্ত করেছেন আদালত।
রায়ে নুসরাত ভুট্টো মামলা ও বেগম শামীম আফ্রিদি মামলাসহ পূর্ববর্তী বিভিন্ন মামলার রায়ের বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়। পরে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে পৃথক আবেদনগুলোর নিষ্পত্তি করেন আদালত।
ইসলামাবাদ হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, আদিয়ালা কারাগারের সুপারিনটেনডেন্টকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আদালতে একটি বাস্তবায়ন প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। ওই প্রতিবেদনে আদালতের নির্দেশনাগুলো কতটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা উল্লেখ করতে হবে।
ইউডি/রেজা

