নেপালে বন্যা: ৬০০ শিক্ষার্থীর সন্ধান মিলছে না, থমকে আছে তথ্য যাচাই
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৪:৪৮
নেপালের রসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় গত ২৬ আগস্টের ভোটকোশী নদীর প্রলয়ংকারী আকস্মিক বন্যায় আনুমানিক ৬০০ শিক্ষার্থী নিখোঁজ রয়েছে। সকালের দিকে ধেয়ে আসা এই ভয়াবহ ঢলে বসতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় পাঁচটি স্থানীয় প্রশাসনিক অঞ্চলে শিক্ষা কার্যক্রম সম্পূর্ণরূপে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষা উন্নয়ন ও সমন্বয় ইউনিট (ইডিসিইউ), স্থানীয় সরকার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, রসুয়ায় আনুমানিক ২৮০ জন এবং প্রতিবেশী নুওয়াকোট জেলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে।
নুওয়াকোট ইডিসিইউ প্রধান সূর্য বাহাদুর খাত্রী জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় প্রধান শিক্ষকদের কাছ থেকে নিখোঁজদের সঠিক তথ্য পেতে বেগ পেতে হচ্ছে। তবে তাদের ধারণা অনুযায়ী জেলাটিতে অন্তত ৩০০ শিক্ষার্থী নিখোঁজ। অন্যদিকে, রসুয়ার শিক্ষা ইউনিট প্রধান দুর্গা প্রসাদ সিলওয়াল জানান, জেলা জুড়ে ২৮০ জন শিক্ষার্থী নিখোঁজ থাকার কথা প্রাথমিক রেকর্ডে এসেছে। কেবল নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভাতেই প্রায় ২৫০ জন শিশু নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষা পরিদর্শক নৱরাজ সাপকোটা।
এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে দুই জেলায় শিক্ষক ও স্কুল কর্মচারীসহ অন্তত ২২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে রসুয়ায় ১৬ জন (১৫ জন সরকারি ও ১ জন বেসরকারি স্কুলের) এবং নুওয়াকোটের ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া গোসাইকুণ্ডে তীর্থযাত্রায় গিয়ে ধাদিং ও গোরখা জেলার বেশ কয়েকজন শিক্ষক ঢলের কবলে পড়ে নিখোঁজ হয়েছেন। ভাটির জেলাগুলো থেকে কিছু লাশ উদ্ধার হলেও তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
বন্যার তাণ্ডবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা শোচনীয়। বিদুর পৌরসভার উত্তরগয়া পাবলিক স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সোমলাল লাওয়াত জানান, তাদের পুরো স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে এবং ৩৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি বাস থেকে ৩০ জনকে উদ্ধার করা গেলেও বাকিদের ভাগ্য অনিশ্চিত। একইভাবে রসুয়ার নীলকণ্ঠ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৪৯৬ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ২০০ জন এবং ৪ জন কর্মী নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানান প্রধান শিক্ষক মাধব লামিছানে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় রসুয়ার গোসাইকুণ্ড, উত্তরগয়া, কালিকা ও আমাছোপডিংমো এবং নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভার সমস্ত স্কুল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাছোপডিংমোতে ৫৮ জন অভিভাবক নিখোঁজ হওয়ায় অনেক শিশু অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে।
নেপালের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, রসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার ২২টি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ১২টি একেবারে ধ্বংস হয়ে গেছে। রসুয়ায় ৪টি এবং নুওয়াকোটের ৮টি স্কুল নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোতে এখন আশ্রয়হীন মানুষরা আশ্রয় নিয়েছেন। সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি দল গঠন করে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এই দুর্যোগে ওই অঞ্চলের ৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।
সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট
ইউডি/রেজা

