ভোলা-পটুয়াখালী সেতু ও টেকসই বেড়িবাঁধের দাবিতে বাউফলে মানববন্ধন
উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৬:২৯
ভোলা-পটুয়াখালী সেতু বাস্তবায়ন এবং পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ধুলিয়া ও দুর্গাপাশা এলাকায় টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে ধুলিয়া এলাকায় এ মানববন্ধন শুরু হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও এলাকাবাসী অংশ নেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধনটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শেষ হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভোলা-পটুয়াখালী সেতু বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে। পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ সহজ হওয়ার পাশাপাশি পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত ও পটুয়াখালী ইপিজেডকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে পায়রা বন্দরের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে।
ভোলা-পটুয়াখালী সেতু বাস্তবায়ন ও স্থায়ী বেড়িবাঁধের আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মোফাজ্জল হোসেন মপু বলেন, “এই সেতু বাস্তবায়ন হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন হবে না, দক্ষিণাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প-কারখানারও ব্যাপক প্রসার ঘটবে। পায়রা বন্দর, কুয়াকাটা ও পটুয়াখালী ইপিজেডসহ পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।”
সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদার বলেন, “এটি আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ও দাবি। নদীভাঙনের কারণে ধুলিয়া ও দুর্গাপাশার মানুষকে প্রতিবছর চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও নদীর পানিতে বাড়িঘর ও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। দল-মত নির্বিশেষে সবার দাবি—দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং ভোলা-পটুয়াখালী সেতু বাস্তবায়ন করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বাউফলে এসে ধুলিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছিলেন। তখন তিনি এ এলাকায় স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছিলেন। দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে এখন কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”
বাউফল উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, “স্থায়ী বেড়িবাঁধ এ এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি ভোলা-পটুয়াখালী সেতু নির্মিত হলে চট্টগ্রাম, ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল ও খুলনার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বার্থে এ সেতু বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।”
বাউফল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক তৌশিফুর রহমান রাফা বলেন, “ধুলিয়া ও দুর্গাপাশা ইউনিয়নের মানুষ প্রতিবছর নদীর পানি ও জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েন। পানিবন্দি হয়ে পড়ায় শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতও ব্যাহত হয়। তাই এলাকার মানুষের পক্ষ থেকে তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবি—দ্রুত ভোলা-পটুয়াখালী সেতু বাস্তবায়ন এবং স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হোক।”
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন বাউফল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার, পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. নুরুল আলম, অ্যাডভোকেট মুজাহিদুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
এ সময় মুঠোফোনের মাধ্যমে বক্তব্য দেন পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, “এটি বাউফলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। মানুষের এই দাবি আমি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেছি। বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। ভোলা-পটুয়াখালী সেতুর বিষয়েও আমি সংসদে কথা বলব এবং মানুষের এই দাবির পক্ষে কাজ করে যাব।”
মানববন্ধন থেকে বক্তারা দল-মত নির্বিশেষে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ভোলা-পটুয়াখালী সেতু বাস্তবায়ন এবং ধুলিয়া-দুর্গাপাশা এলাকায় টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
ইউডি/রেজা/রুবেল

