ফিজিওথেরাপি মেডিকেল সায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

ফিজিওথেরাপি মেডিকেল সায়েন্সের গুরুত্বপূর্ণ অংশ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১২:৫২

ফিজিওথেরাপি কোনো সাধারণ ম্যাসাজ বা পার্লারসেবা নয়, এটি মেডিকেল সায়েন্সের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এবারের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য ‘হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি এবং শারীরিক কার্যকলাপের ভূমিকা’।

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ফিজিওথেরাপি মূলত মেডিকেল সায়েন্সের রিহ্যাবিলিটেশন বা পুনর্বাসন ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মানুষ অসুস্থ না হোক, সেটিই সবচেয়ে ভালো। তবে অসুস্থ হয়ে গেলে চিকিৎসার বিভিন্ন পর্যায়ে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পেশাজীবীর পাশাপাশি ফিজিওথেরাপিস্টদেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, স্ট্রোকের পর অনেক রোগীর শরীরের কোনো অংশে প্যারেসিস বা প্যারালাইসিস হতে পারে। রোগীকে পুনরায় সক্রিয় জীবনে ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি প্রয়োজন হয়। শুধু হাসপাতালেই নয়, বর্তমানে কমিউনিটি ও বাড়িভিত্তিক ফিজিওথেরাপি সেবারও গুরুত্ব বাড়ছে। এতে রোগীর চিকিৎসা ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন সহজ হয়।

মন্ত্রী বলেন, ফিজিওথেরাপিকে কোনোভাবেই সাধারণ ম্যাসাজ বা পার্লারের সেবার সঙ্গে তুলনা করা যাবে না। এটি একটি বৈজ্ঞানিক ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিষয়। যথাযথ জ্ঞান ও মূল্যায়ন ছাড়া ফিজিওথেরাপি প্রয়োগ করলে রোগীর উপকারের পরিবর্তে ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কোনো রোগীর তীব্র ব্যথা থাকলে তার প্রকৃত কারণ নির্ণয় না করে থেরাপি শুরু করা হলে ব্যথা আরও বেড়ে যেতে পারে।

ফিজিওথেরাপি পেশার মানোন্নয়নে প্রফেশনাল কাউন্সিলের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, কাউন্সিল পুরোপুরি কার্যক্রম শুরু করলে গুণগত মানসম্পন্ন ফিজিওথেরাপিস্ট তৈরি হবে এবং দেশের মানুষও প্রশিক্ষিত ও যোগ্য ফিজিওথেরাপিস্টের মাধ্যমে সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে কে যোগ্য এবং কে যোগ্য নন, সেটিও সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট হবে। এতে অপচিকিৎসা ও প্রতারণার সুযোগ কমবে।

তিনি আরও বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত ও উন্নত হচ্ছে। একসময় নার্সিং কিংবা বিভিন্ন মেডিকেল টেকনোলজি বিষয়ে মানুষের আগ্রহ কম থাকলেও বর্তমানে এসব বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফিজিওথেরাপির ক্ষেত্রেও ডিপ্লোমা থেকে চার বছর মেয়াদি স্নাতক, স্নাতকোত্তর এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা চালু হয়েছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের এই অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে ফিজিওথেরাপিকেও এগিয়ে নিতে হবে।

হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে শারীরিক কার্যকলাপের গুরুত্ব উল্লেখ করে সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, কখন হাঁটতে হবে, কতটুকু শারীরিক কার্যকলাপ করতে হবে কিংবা কখন বিশ্রাম নিতে হবে—এসব বিষয়ও রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে। স্ট্রোকের পর রোগীর পুনর্বাসন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। অস্ত্রোপচার বা প্রাথমিক চিকিৎসার পর রোগীকে তার স্বাভাবিক কর্মজীবনে ফিরিয়ে আনতে সময় ও নিয়মিত পুনর্বাসন প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একজন রোগীর চিকিৎসায় চিকিৎসক একা সব কাজ করেন না। চিকিৎসকের পাশাপাশি নার্স, ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট এবং ফিজিওথেরাপিস্টসহ প্রত্যেকের নিজস্ব দায়িত্ব রয়েছে। একজন রোগীর হাত ভেঙে গেলে চিকিৎসক সেটি ঠিক করে দিতে পারেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে হাতের স্বাভাবিক নড়াচড়া ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যায়াম ও পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপিস্টের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। একইভাবে স্ট্রোকের চিকিৎসার পর রোগীকে পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতেও ফিজিওথেরাপিস্টদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্যসেবাকে কার্যকর ও মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, প্রশাসক, নীতিনির্ধারক ও গণমাধ্যম—সব পক্ষের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। স্বাস্থ্য বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতেও প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা কেউ কারও প্রতিযোগী নই; আমরা সবাই একে অপরের পরিপূরক ও সম্পূরক।’ রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক চিকিৎসকের কাজ, নার্স নার্সের কাজ, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট তার দায়িত্ব এবং ফিজিওথেরাপিস্ট ফিজিওথেরাপির দায়িত্ব পালন করবেন—এভাবেই সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।

বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস শুধু একদিনের অনুষ্ঠান নয় উল্লেখ করে ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য হলো ফিজিওথেরাপিস্টদের নিজস্ব শিক্ষা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সময়ে মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান কল্লোল। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ফিজিওথেরাপি অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইউডি/কেএস

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading