‘বেশি এলএনজি আমদানির পাশাপাশি গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি’

‘বেশি এলএনজি আমদানির পাশাপাশি গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি’

উত্তরদক্ষিণ। মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১২:৪৮

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে চাইলেই বেশি পরিমাণ এলএনজি আমদানি করা সম্ভব নয়। দেশে আমদানি করা এলএনজি গ্যাসে রূপান্তরের সক্ষমতা সীমিত থাকায় শুধু আমদানি বাড়িয়ে জ্বালানি সংকটের সমাধান করা যাবে না। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে আরো এফএসআরইউ আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “দেশে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট এলএনজি গ্যাসিফাই করার সক্ষমতা রয়েছে। ফলে এলএনজির দাম কমে গেলেও বাংলাদেশ চাইলেই বিপুল পরিমাণ এলএনজি আমদানি করতে পারবে না। কারণ আমদানি করা এলএনজিকে গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করার মতো সক্ষমতাও থাকতে হবে।”

তিনি বলেন, “বেশি এলএনজি আমদানির পাশাপাশি গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এ জন্য চীনের কাছ থেকে জরুরি ভিত্তিতে একটি এফএসআরইউ আনার জন্য অর্ডার দেওয়া হয়েছে। সেটি পেতে প্রায় দেড় বছর সময় লাগতে পারে।”

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “শুধু একটি এফএসআরইউ আনলেই হবে না। সেখান থেকে গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিতে প্রয়োজনীয় সঞ্চালন পাইপলাইনসহ অন্যান্য অবকাঠামোও প্রস্তুত করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাই অগ্রাধিকার। ফলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পরিবর্তে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়। কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র গ্যাস না পেলে তেল দিয়ে চালাতে হয়। এতে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। শিল্পকারখানায় গ্যাস সরবরাহের অনিশ্চয়তা থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতারাও অর্ডার দেওয়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বিবেচনা করেন।”

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে খরচের বিষয়টির পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের সংকটে পড়তে না হয়, সে জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হচ্ছে।”

তিনি জানান, এলএনজি আমদানির পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরে গ্যাস অনুসন্ধানের কাজও জোরদার করা হয়েছে। স্থলভাগ ও সমুদ্র এলাকায় নতুন গ্যাসের সন্ধানে অনুসন্ধান কার্যক্রম চালানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও নতুন গ্যাস পাওয়া গেলে সেটি দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা, বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহার করা কিংবা অন্যভাবে কাজে লাগানোর বিষয়ও বিবেচনা করা হবে।

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “দেশের নিজস্ব গ্যাসের মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী এলএনজি আমদানি ও গ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা বাড়াতে হবে। একদিকে জরুরি পরিস্থিতি সামাল দেওয়া, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। গত দেড় বছরে অর্থনৈতিক চাপ তুলনামূলক কম থাকায় প্রয়োজনীয় কিছু কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল। এখন জ্বালানি খাতে যেসব জরুরি অবকাঠামো প্রয়োজন, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading