থাইল্যান্ডে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার শ্রীলঙ্কান কর্মী নিয়োগ

থাইল্যান্ডে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার শ্রীলঙ্কান কর্মী নিয়োগ

উত্তরদক্ষিণ। শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৮:২০

অভ্যন্তরীণ শিল্প ও উৎপাদন খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নতুন শ্রম বাজার থেকে নিয়োগ শুরু করল থাইল্যান্ড। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি আইনি ও বৈধ পন্থায় প্রাথমিক ধাপে ১০ হাজার শ্রীলঙ্কান কর্মী নিয়োগের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।

গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) থাইল্যান্ডের মন্ত্রিসভায় শ্রীলঙ্কার সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক শ্রম সহযোগিতা সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি অনুমোদিত হয়।

ঐতিহাসিকভাবে থাইল্যান্ড শ্রমশক্তির জন্য মূলত প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং লাওসের ওপর নির্ভরশীল। তবে সম্প্রতি কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক টানাপোড়েনের জেরে প্রায় ১ লাখেরও বেশি কম্বোডিয়ান শ্রমিক থাইল্যান্ড থেকে নিজ দেশে ফেরত গিয়েছেন।

ফলে দেশটির নির্মাণ, কৃষি, শিল্প উৎপাদন এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে বড় ধরনের শূন্যতা ও জনবল সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় থাইল্যান্ড তার প্রচলিত শ্রম উৎসের বাইরে গিয়ে শ্রীলঙ্কাকে পাইলট প্রকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।

থাই সরকারের উপ-মুখপাত্র ক্যাপ্টেন পাতদারাসম থংসালুয়াকর্ন জানান, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য কেবল কর্মী আনা নয়, বরং একটি স্বচ্ছ, নিয়মতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক নিয়োগ প্রক্রিয়া গড়ে তোলা। এর মাধ্যমে অবৈধ শ্রমিক নিয়োগ এবং মানব পাচারকারী চক্রের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।

প্রাথমিকভাবে শ্রীলঙ্কান কর্মীরা ২ বছরের চুক্তিতে থাইল্যান্ডে কাজের সুযোগ পাবেন, যা পরবর্তীতে আরও ২ বছর বাড়ানো যাবে। চুক্তি শেষে কর্মীদের নিজ দেশে ফিরে যাওয়া বাধ্যতামূলক এবং এর যাবতীয় যাতায়াত খরচ নিয়োগকর্তাকে বহন করতে হবে।

থাইল্যান্ডের শ্রম আইন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কান কর্মীরা স্থানীয় থাই শ্রমিকদের মতোই সমান মজুরি, সুযোগ-সুবিধা এবং আইনি সুরক্ষা পাবেন। যেকোনো শ্রম বিরোধ বা বৈষম্যের ক্ষেত্রে তারা থাই আদালতের আইনি সাহায্য নিতে পারবেন।

কর্মীদের থাইল্যান্ডে প্রবেশের আগেই সরাসরি নিয়োগকর্তার সঙ্গে কর্মসংস্থান চুক্তি স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে বৈধ ওয়ার্ক পারমিট, বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং স্বাস্থ্য বীমা নিশ্চিত করতে হবে।

থাইল্যান্ডের শ্রমমন্ত্রী জুলাইপুন আমোর্নভিভাত স্পষ্ট করেছেন যে, এই বিদেশি কর্মী নিয়োগের ফলে স্থানীয় থাই নাগরিকদের কর্মসংস্থানে কোনো প্রভাব পড়বে না। কারণ, শ্রীলঙ্কান কর্মীদের মূলত এমন সব প্রযুক্তিগত ও শ্রমঘন পদে নিয়োগ দেওয়া হবে, যেগুলোতে স্থানীয় কর্মীরা আর আবেদন করছেন না বা কাজ করতে আগ্রহী নন।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শ্রীলঙ্কার বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে বিপুলসংখ্যক কর্মীর এই বৈদেশিক কর্মসংস্থান দেশটির রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। থাইল্যান্ডের এই সিদ্ধান্তকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading