চন্দ্রজয়ের পথে তুরস্ক, প্রস্তুত করছে নভোযান
উত্তরদক্ষিণ। বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ০৯:২০
নিজেদের প্রকৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর ভর করে প্রথম চন্দ্রাভিযানের জন্য নির্ধারিত মহাকাশযান নির্মাণ, সংযোজন ও একত্রীকরণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে তুরস্ক। গত সোমবার দেশটির শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাজির এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। নির্মাণ কাজ শেষে মহাকাশযানটিকে এখন সিস্টেম-লেভেলের জটিল পরিবেশগত পরীক্ষার জন্য তার্কিশ অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের স্পেস সিস্টেমস ইনটিগ্রেশন অ্যান্ড টেস্ট সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শিল্প ও প্রযুক্তিমন্ত্রী জানান, নিজস্ব প্রযুক্তির মাধ্যমে মহাকাশে চন্দ্রাভিযান পরিচালনা করা বিশ্বের নবম দেশ এবং প্রথম মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে তুরস্ক। প্রায় সাড়ে তিন টন ওজনের এই বিশেষ মহাকাশযানটি ২০২৭ সালের শুরুর দিকে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় দুই মাসের দীর্ঘ যাত্রার পর এটি চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে আনুমানিক ১০০ কিলোমিটার ওপরে একটি মেরু-বৃত্তাকার কক্ষপথে পৌঁছাবে।
প্রাথমিকভাবে মহাকাশযানটি অন্তত তিন মাস তথ্য সংগ্রহের কাজ করার জন্য ডিজাইন করা হলেও পারফরম্যান্স বিবেচনা করে অভিযানের মেয়াদ সর্বোচ্চ ১৮ মাস পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। অভিযানকালে মহাকাশযানটি চাঁদের পৃষ্ঠে সৌর বায়ুর মিথস্ক্রিয়া, পানি সৃষ্টির নেপথ্য প্রক্রিয়া, চৌম্বক ক্ষেত্র এবং চন্দ্রপৃষ্ঠের তাপীয় বৈশিষ্ট্য নিয়ে বিস্তারিত গবেষণা চালাবে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে সেখানে তেজস্ক্রিয়তা পরিমাপ করা হবে। বৈজ্ঞানিক এই মিশনটি সফলভাবে শেষ হওয়ার পর নিয়ন্ত্রিত উপায়ে গতি কমিয়ে মহাকাশযানটিকে চাঁদের পৃষ্ঠে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই অভিযানের অন্যতম মূল একটি উপাদান হলো তুরস্কের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হাইব্রিড প্রোপালশন সিস্টেম বা চালিকাশক্তি ব্যবস্থা। মহাকাশযানকে কক্ষপথে ওঠানো থেকে শুরু করে চাঁদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার চূড়ান্ত ধাপে এই প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে। মন্ত্রী মেহমেত ফাতিহ কাজির জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযানের মাধ্যমে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সম্পূর্ণ নিজস্ব ও জাতীয় সম্পদে নির্মিত একটি হাইব্রিড প্রোপালশন সিস্টেম গভীর মহাকাশে পরিচালনা করতে যাচ্ছে তুরস্ক।
ইউডি/কেএস

