৪৬ ঘণ্টার মাথায় আবারও বন্ধ সিইউএফএলের ইউরিয়া উৎপাদন
উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, আপডেট ১৮:২৭
প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ পেয়ে উৎপাদনে ফেরার ৪৬ ঘণ্টার মধ্যেই আবারও বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) ইউরিয়া সার উৎপাদন।
কারিগরি সমস্যার কারণে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) উত্তম চৌধুরী। তিনি বলেন, কারিগরি সমস্যার কারণে বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। সমস্যাটি সমাধানে কাজ চলছে। আগামী রবিবার অথবা সোমবারের দিকে কারখানাটি পুনরায় চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর আগে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬টার দিকে সিইউএফএলে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরেছিল রাষ্ট্রায়ত্ত এ সার কারখানাটি।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে অ্যামোনিয়া প্ল্যান্ট চালু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্টে উৎপাদন শুরু হয়। তবে উৎপাদন শুরুর ৪৬ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
চলতি বছরের ৪ মার্চ গ্যাস-সংকটের কারণে সিইউএলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রায় ছয় মাস ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ ছিল। গত ২৫ আগস্ট কারখানাটিতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর যন্ত্রপাতি পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির প্রয়োজন হওয়ায় তখনই উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।
গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর উৎপাদন শুরু হয়। উৎপাদন শুরুর পরও কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিয়েছিল। সেগুলো সমাধান করে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছিল কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যেই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেল।
কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন চালু রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হয়। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকায় কারখানার বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ওপরও এর প্রভাব পড়ে। ফলে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার পরও উৎপাদনে ফিরতে সময় লাগে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত সিইউএফএল একটি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা। কারখানাটির দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ২০০ টন।
গ্যাস-সংকট ও কারিগরি ত্রুটির কারণে গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে কারখানাটির উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। চলতি বছরের মার্চে বন্ধ হওয়ার আগে গত দুই বছরেও যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস-সংকটসহ বিভিন্ন কারণে কয়েক দফা উৎপাদন বন্ধ হয়েছিল।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় এবার উৎপাদনে ফিরলেও মাত্র ৪৬ ঘণ্টার মধ্যে আবারও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন স্থিতিশীল রাখা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ইউডি/রেজা

