অভিজিৎ হত্যার সাক্ষ্য দিতে অধ্যাপক অজয় রায় আদালতে
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন ২৮ অক্টোবর ২০১৯ @ ১৫ঃ০৫
সন্তান হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে সাক্ষ্য দিতে আদালতে উপস্থিত হয়েছেন বিজ্ঞান লেখক অভিজিৎ রায়ের বাবা অধ্যাপক অজয় রায়।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. গোলাম ছারোয়ার খান জাকির জানান, স্কুলশিক্ষক ছোট ছেলে অনুজিত রায়কে সঙ্গে নিয়ে অধ্যাপক অজয় রায় সোমবার দুপুরে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান। কিন্তু এ আদালতের বিচারক মো. মজিবুর রহমান ছুটিতে থাকায় আদালতের পুলিশ সদস্যরা অজয় রায়ের চেয়ার বহন করে ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের জজ জেসমিন আরা বেগমের এজলাসে নিয়ে যান।
সেখানেই অভিজিতের বাবার সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন। চার বছর আগে প্রবাসী লেখক অভিজিৎ রায় একুশের বইমেলা থেকে বেরিয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর তার বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক অজয় রায় বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
হত্যাকাণ্ডের চার বছর পর গত ১৩ মার্চ ছয় জঙ্গিকে আসামি করে বহুল আলোচিত এই মামলার অভিযোগপত্র দেন তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম। সেখানে মোট ৩৪ জনকে সাক্ষী করা হয়।
সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ করে আদালত গত ১ অগাস্ট অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে আসামিদের বিচার শুরুর আদেশ দেয়। সে অনুযায়ী ১১ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও তা বিলম্বিত হয় শোকগ্রস্ত অজয় রায়ের অনুপস্থিতির কারণে।
সাধারণত মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সন্তান হারানোর বেদনা নতুন করে মনে জাগাতে চান না বলে অধ্যাপক অজয় রায়, সাক্ষ্য দিতে আদালতে যেতে চাইছিলেন না। অন্যদিকে বাদীর সাক্ষ্য ছাড়া মামলার অভিযোগ প্রমাণ করা কঠিন হয়ে যায় বলে আইনজীবীরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন। শেষ পর্যন্ত কয়েকটি তারিখ পেরিয়ে যাওয়ার পর সোমবার আদালতে উপস্থিত হয়েছেন অভিজিতের বাবা।
এই মামলার ছয় আসামি হলেন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের নেতা সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, আরাফাত রহমান ওরফে সিয়াম ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস্), আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ, ব্লগার শফিউর রহমান ফারাবী।
এদের মধ্যে জিয়া ও আকরাম ছাড়া বাকি চার আসামি কারাগারে রয়েছেন। পলাতক জিয়া ও আকরামের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে। সেনাবাহিনীর বরখাস্ত মেজর জিয়াকে ধরিয়ে দিতে ২০ লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছে।

