চিকিত্সা হলে প্রেস ব্রিফিং হতো না : খসরু
উত্তরদক্ষিণ মূদ্রিত সংস্করন ২৯ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশ ০০:০১ আপডেট ১০:৩০
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, খালেদা জিয়ার চিকিত্সা হলে ‘প্রেস ব্রিফিং’ হতো না। গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এক প্রতিবাদী নাগরিক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
আমীর খসরু বলেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিত্সার বিষয়ে হাসপাতালে প্রেস ব্রিফিং করার কথা। চিকিত্সা হলে কি প্রেস ব্রিফিং লাগে? মানুষ কি এমন বোকা? রোগী আর রোগীর আত্মীয়স্বজন এমন বোকা? বাংলাদেশে এখন সবাই সরকারের লোক। সবাই এখন একই কথা বলে,চিকিত্সক থেকে শুরু করে সবাই এখন একই কথা বলে। উনাদের প্রেস কনফারেন্সের কোনও মূল্য নাই। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এসব প্রেস কনফারেন্সের কোনও মূল্য নাই। তাদের বিশ্বাস যোগ্যতা বাংলাদেশের মানুষের কাছে নাই।’ চিকিত্সা নিয়ে রাজনীতির প্রয়োজন ছিল না বলে উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী খালেদা জিয়া চিকিত্সা পাওয়ার কথা। চিকিত্সা নিয়ে রাজনীতি করার কোনও প্রয়োজন ছিল না। কেন সরকার রাজনীতি করছে? তারা খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠিয়েছে। মিথ্যা কথা বলে তাকে চিকিত্সা থেকে বঞ্চিত করছে। ধীরে ধীরে তাকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার জন্য তারা মিথ্যা কথা বলছে।’ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য ভারতের কাছে স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে এমন দাবি করে আমীর খসরু বলেন, ‘বাংলাদেশে যাদের ভোটের দরকার নেই, জনগণের কাছে যাওয়ার দরকার নেই, তারা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ কেন দেখবে? তারা সেই কাজটিই করেছে। জনগণের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে নিজেদের স্বার্থ পূরণ করেছে। তারা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্যই দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বিশ্বের গণতান্ত্রিক নেতারা জেল থেকে এমনিতেই বের হননি। সংগ্রামের মাধ্যমে,একতার মাধ্যমে তারা বের হয়েছেন। আমাদেরও সংগ্রাম করতে হবে।’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল আয়োজিত এ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি হুমায়ুন করিব বেপারি। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, সুকোমল বড়ুয়া, বিএনপি নেতা ফরিদ উদ্দিন, শিরিন সুলতানা প্রমুখ।
চিকিত্সকের বক্তব্যের সঙ্গে বিএসএমএমইউ’র পরিচালকের কথার মিল নেই: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা অসামাঞ্জস্যপূর্ণ বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) বিকালে রাজধানীর নয়া পল্টনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, খালেদা জিয়ার অসুস্থতার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিত্সকের বক্তব্যের সঙ্গে বিএসএমএমইউ পরিচালকের বক্তব্যের মিল নেই। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বিএসএমএমইউ এর পরিচালক বিশ্ববিদ্যালয়ের বি-ব্লকের শহীদ ডা. মিল্টন হলে খালেদা জিয়ার চিকিত্সা ও স্বাস্থ্যগত বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করতে গিয়ে বলেন, ‘খালেদা জিয়া ভালো আছেন, চিকিত্সায় সন্তুষ্ট।’ অথচ বেগম খালেদা জিয়ার চিকিত্মার জন্য গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক জিলান মিয়া সরকার বলেছেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া চিকিত্সকদেরকে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন এবং অত্যন্ত বিনয়ী ব্যবহার করেন। তবে তিনি হাঁটতে পারেন না, অন্যজনের সহায়তায় তাকে হাঁটতে হয়। তার আরও চিকিত্সা প্রয়োজন। কিন্তু চিকিত্সক হিসেবে নানা অসুবিধার কারণে আমাদেরও প্রতিদিন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয় না।’
রিজভী বলেন, ‘অধ্যাপক জিলান মিয়া সরকারের বক্তব্যের সঙ্গে পরিচালকের বক্তব্য মিলছে না। পরিচালক সরকারের শেখানো কথাই বলছেন। বিএসএমএমইউ এর পরিচালকের বক্তব্যে এটি সুস্পষ্ট যে, ভয়ানক অসুস্থ ৭৫ বছর বয়সী চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে কারাবন্দি রেখে বিনা চিকিত্সায় তিলে তিলে নিঃশেষ করার মহাআয়োজন চলছে।’ বিএনপির নেতার অভিযোগ, ‘পরিচালকের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মনোভাবই প্রতিফলিত হয়েছে। পরিচালকের বক্তব্যের অনেকাংশই এখতিয়ার বহির্ভূত। কারাবন্দি ও ভীষণ অসুস্থ দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে প্রভূত ও নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী শেখ হাসিনার মতোই পরিচালকের বক্তব্যও অযাচিত, অগ্রহণযোগ্য, অসৌজন্যমূলক, পূর্বকল্পিত, বিভ্রান্তিকর ও কুত্সামূলক।’

