মেননের ব্যাখ্যায় ‘সন্তুষ্ট’ ১৪ দল
উত্তরদক্ষিণ মূদ্রিত সংস্করন ২৯ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশ ০০:০১ আপডেট ১১:২৫
‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিতে পারেনি’- ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের এমন বক্তব্যের বিষয়ে তিনি যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে ‘সন্তুষ্ট’ হয়েছে ১৪ দল। তার কাছে ১৪ দলের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে জবাব চাওয়ার পর মেনন তার বক্তব্যের ব্যাখ্যাসহ চিঠির জবাব দেন। এ বিষয়ে গতকাল সোমবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর ধানমন্ডিতে ১৪ দলের মুখপাত্র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোহাম্মদ নাসিমের বাসায় ১৪ দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে রাশেদ খান মেননের বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে ১৪ দল যে চিঠি দিয়েছিল, তিনি তার জবাব দিয়েছেন। সেখানে মেনন বলেছেন, তার বক্তব্য খণ্ডিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। যে কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। তিনি নির্বাচন প্রশ্নে ১৪ দলের সঙ্গে অভিন্ন অবস্থান পোষণ করেন। নির্বাচন নিয়ে ১৪ দলের যে বক্তব্য তার সঙ্গে তিনি একমত। তারপরও তার বক্তব্য নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’ মোহাম্মদ নাসিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির (জেপি) মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, বাংলাদেশ জাসদের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, গণতন্ত্রী পার্টির সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস প্রমুখ। বৈঠকে রাশেদ খান মেননের চিঠির ব্যাখ্যা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা এবং যেকোনও মূল্যে ভুল বোঝাবুঝি নিরসন করে ১৪ দলের ঐক্য অটুট রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। প্রসঙ্গত, ১৯ অক্টোবর বরিশালের অশ্বিনীকুমার টাউন হলে ওয়ার্কার্স পার্টির বরিশাল জেলা শাখার সম্মেলনে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায়নি। এর বড় সাক্ষী আমি নিজেই। আজ মানুষ তাদের ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত।’ মেননের এই বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা হয়। বেরিয়ে আসে ক্যাসিনো থেকে মেননের ভাগ নেয়ার তথ্য। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ নিয়ে বলেছেন, তিনি মন্ত্রীত্ব পেলে আজ এ কথা বলতে পারতেন না। তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, ক্যাসিনোকাণ্ডে মেনন জড়িত থাকার প্রমাণ পেলে ছাড় দেয়া হবে না। এরপর গত ২৪ অক্টোবর ১৪ দলীয় জোট বৈঠক করে রাশেদ খান মেননকে তার বক্তব্যের জন্য কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

