ঢাকা ব্যাংকের এমডিকে দুদকে তলব, এনসিসি ব্যাংকের এমডি’র ৯ কোটি টাকা জব্দ

ঢাকা ব্যাংকের এমডিকে দুদকে তলব, এনসিসি ব্যাংকের এমডি’র ৯ কোটি টাকা জব্দ

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রিত সংস্করণ । বৃহস্পতিবার, ৩১ অক্টোবর ২০১৯ । ১২ঃ০১ । আপডেট ০৮ঃ২৯

ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ নেওয়া ও ঋণ কেলেংকারিসহ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমানকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাকে আগামী ৬ নভেম্বর বেলা ১১টায় দুদকের সেগুনবাগিচার কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। গতকাল বুধবার (৩০ অক্টোবর) এ নির্দেশনা দিয়ে তার কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে দুদকের মুখপাত্র প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক আবুবকর সিদ্দিক ঢাকা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানায় নোটিশটি পাঠিয়েছেন।

ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ মাহবুবুর রহমান

নোটিশে বলা হয়, ঢাকা ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষগ্রহণ, জালিয়াতি, বিরাট অঙ্কের ঋণ কেলেঙ্কারি, ভুয়া এলসি, বিভিন্ন দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাত্ ও বিদেশে পাচারসহ অপরাধের অভিযোগ আছে। ‘বিষয়টি অতীব জরুরি’ বলে উল্লেখ করে ঢাকা ব্যাংকের এমডিকে যথাসময়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। আবুবকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের অভিযোগের অনুসন্ধান করছেন।

এনসিসি ব্যাংকের এমডির ৯ কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ: অপরদিকে, বেসরকারি ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ ও তার স্ত্রীর প্রায় ৯ কোটি টাকার ১৫টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধেরও (ফ্রিজ) আদেশ দিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আল মামুন এ আদেশ দিয়েছেন। বিচারক আদেশে উল্লেখ করেন, আসামি মোসলেহ উদ্দীন আহমেদের অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ করা না হলে তা হস্তান্তর হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। যা পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা সম্ভব হবে না। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ

মোসলেহ উদ্দীনের পারমিশন মামলার আবেদনে বলা হয়, আসামি কোটি কোটি টাকা তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট নামে পরিচালিত বিভিন্ন ব্যাংকে পরিচালিত একাধিক হিসাবে স্থানান্তর করেছেন। এছাড়া পরবর্তী সময়ে নিজ, নিকট আত্মীয় এবং স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তরের মাধ্যমে নগদ উত্তোলন করে এবং প্লেসমেন্ট, লেয়ারিং, ইন্টিগ্রেশন করে মানি লন্ডারিং করেছেন মর্মে প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণাদি পাওয়া গেছে। আসামি অসত্ উদ্দেশ্যে দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন। এসব অবৈধ সম্পদ বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় লন্ডারিং করেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪ (২), ৪ (৩) ধারা ও দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারায় মামলা দায়েরের যথেষ্ট কারণ রয়েছে।

মোসলেহ উদ্দীন অস্থাবর সম্পদসমূহ অবৈধভাবে অর্জন করেছেন নিজে এবং স্ত্রী লুনা শারমিনের যৌথ নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ও আর্থিক লগ্নিকারী ও ব্রোকারেজ হাউজে প্রতিষ্ঠানে জমা ও লগ্নি করেছেন। যার মধ্যে উত্তরা ব্যাংক, স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, সিটি ব্রোকারেজ, এনসিসিবি, সিএসএমএল ও ই-সিকিউরিটিজ এবং যমুনা ব্যাংকের আটটি হিসাবে থাকা ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭৯ হাজার ৪০২ টাকা এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া, ডাচ বাংলা ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, মধুমতি ব্যাংক, ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক ও সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকে সাতটি হিসাবে ৬ কোটি ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র রয়েছে। আসামি কর্তৃক অবৈধ উপায়ে অর্জিত ওই সকল অস্থাবর, সম্পদসমূহ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বন্ধক বা বেহাত করার প্রচেষ্টা করছেন। এ অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে আইনের উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। এজন্য অবিলম্বের এ আসামির অস্থাবর সম্পত্তি অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।

SekFaruk

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading