আবারও আইন সংস্কারে উদ্যোগী ইসি
উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ০২ নভেম্বর ২০১৯ । ১৩ঃ৩0
একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগে তুলে রাখা আইনি সংস্কারকাজ নিয়ে ফের উদ্যোগী হয়েছে কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আইন ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ও ১৯৭৬ সালের সীমানা পুননির্ধারণ অধ্যাদেশের যুগোপযোগী সংস্কারের কথা ছিল গত বছর।
তা গুছিয়ে আনা হলেও ৩০ ডিসেম্বরের ভোটকে সামনে রেখে থমকে যায় এ কাজ। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশের বিরোধিতার মধ্যেই একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগ রেখে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধন হয় তফসিল ঘোষণার আগে।
ঠিক এক বছর পর বৃহস্পতিবারের কমিশন সভায় আরপিও’র প্রস্তাবিত আইনের খসড়া চূড়ান্ত ও সীমানা আইনের খসড়া পুনর্বিবেচনার জন্য উপস্থাপিত হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “সংস্কারের এ কার্যক্রম তো চলমান প্রক্রিয়া। কমিশন সভায় দুটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একজন নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বে আইন সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি এগুলো আরও পর্যালোচনা করে দেখবে।” তবে এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। সুনির্দিষ্ট কোনো সংস্কারের উল্লেখ না করে রফিকুল বলেন, “নির্বাচনী আইনের বিভিন্ন বিষয়ে সংস্কার প্রস্তাব এসেছিল। এ নিয়ে আরও পর্যালোচনা করতে হবে। সীমানা অধ্যাদেশের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের পাঠানো হয়েছিল। তাতে কিছু অবজারভেশন দেওয়া হয়েছে। এগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ইসির সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি কাজ করবে।”
মুলতবি সভা রোববার
সভায় ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার আগেই তা মুলতবি করা হয়। আগামী রোববার আবারও সভা অনুষ্ঠিত হবে। জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম বলেন, “৮টি এজেন্ডার মধ্যে প্রথম দুটি বিষয়ে আলোচনা করেই সভা মুলতবি করা হয়েছে। পর্যাপ্ত সময় না থাকায় রোববার আবার বসব আমরা। ভোটের প্রস্তুতি বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনার পরও হয়ত আরও কয়েকটি সভা লাগতে পারে।”
আলোচ্যসূচিতে যা ছিল
বৃহস্পতিবারের কমিশন সভার ৮ এজেন্ডা- জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০১৯ এর খসড়া পুনর্বিবেচনা; গণপ্রতিনিধিত্ব আইনের খসড়া চূড়ান্তকরণ; উপজেলা পরিষদের সংরক্ষিত সদস্য পদে নির্বাচন; ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রস্তুতি; স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচন; জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য গোপন বিষয়ক নির্দেশনা; নির্বাচনী প্রশিক্ষণ বাজেট এবং বর্তমান কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রতিবেদন ও প্রামাণ্য চিত্র তৈরি।

