মহিলা সমিতিতে ‘কোর্ট মার্শাল’
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:১৪
আজ (৭ ই নভেম্বর) বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহীম মিলনায়তনে (বেইলি রোড) মঞ্চস্থ হবে থিয়েটার আর্ট ইউনিট এর সাড়াজাগানো নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’। স্বদেশে দীপকের মূল নাটক থেকে ‘কোর্ট মার্শাল’ রূপান্তর ও নির্দেশনা দিয়েছেন এস এম সোলায়মান। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অত্যন্ত জোরালোভাবে উঠে এসেছে এই নাটকে। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে সেই আলোকেই আবৃত ‘কোর্ট মার্শাল’। বীরাঙ্গনা প্রসঙ্গটিও উঠে এসেছে স্পর্শকাতরভাবে। শ্রেণিসংঘাতের ভিত্তিতে আমাদের সমাজের প্রকৃত চেহারাটি নাটকটিতে সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠে। ব্যতিক্রম গল্পে প্রায় দেড় ঘণ্টা ব্যপ্তির এ নাটকে উঠে এসেছে সামাজিক শ্রেণিদ্বন্দ্ব, রাজনৈতিক উত্তরাধিকার, সামন্ত প্রবৃত্তির উত্পীড়ন বা চিন্তার স্তরে সামাজিক নৈরাজ্য। সত্য আবিষ্কারের সংগ্রামও ছিল জোরালোভাবে। শ্রেণি সংগ্রামের ইতিহাসে পরাজিত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্বকারী এক মানুষ সিপাহী আকবর। আকবরের মা বীরাঙ্গনা। মুক্তিযুদ্ধে যারা মানসিক ও মানবিক ক্ষতের দাগ নিয়ে বেঁচেছিলেন। জাতি তাদেরকে দিয়েছে বীরাঙ্গনার সম্মান। কিন্তু আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়া মায়ের ‘বীরাঙ্গনা’ উপাধি আকবরকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেয়নি। লজ্জা ও অপমানের হিংস থাবা তাকে নিরন্তর তাড়া করে বেড়িয়েছে। আকবরকে তারাই অপদস্থ করেছে, যারা ছিল মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের উত্তরাধিকার। সিপাহি আকবর এই পরাজয় মেনে নিতে পারেনি। ক্ষত-বিক্ষত হূদয় ও বেদনা নিয়ে বার বার ঘুরে দাঁড়িয়েছে আকবর। বিচারের বাণী যেখানে নীরবে নিভৃতে কাঁদে সেখানে অবিচার দিয়েই অবিচারের পথ রোধ করে আকবর। এমনি হূদস্পর্শক কথনে গড়ে উঠেছে নাটক ‘কোর্ট মার্শাল’।

