আসিফের আবেগঘন পোস্ট: ভক্তদের অক্ষত রাখার আবদার, তবুও ভাঙা হচ্ছে ‘আকবর ভিলা’

আসিফের আবেগঘন পোস্ট: ভক্তদের অক্ষত রাখার আবদার, তবুও ভাঙা হচ্ছে ‘আকবর ভিলা’

উত্তরদক্ষিণ। বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬, আপডেট ১২:২৮

বাংলা গানের যুবরাজ আসিফ আকবর একাধারে পপ-ধারার সঙ্গীত শিল্পী ও অভিনেতা। তিনি ফেসবুকে সবসময় সরব থাকেন। শেয়ার করেন তার ক্যারিয়ার এবং মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও।

আসিফ আকবর কুমিল্লার সন্তান। সেখানেই জন্ম, বেড়ে ওঠা সব। হঠাৎ গ্রামের বাড়ির কয়েকটি ছবি পোস্ট করে বুধবার রাতে ফেসবুকে বাড়িটির নির্মাণের ইতিহাস তুলে ধরেন। কিভাবে তার বাবা-মায়ের অক্লান্ত শ্রম ও চেষ্টায় এটি তাদের প্রিয় আবাস হয়ে উঠেছিল, জানিয়েছেন সেসব।

আসিফ লেখেন, ‘১৯৬০ সালে আব্বা-আম্মার বিয়ের পরপরই আমার দাদা মরহুম আবদুল হামিদের উদ্যোগে কুমিল্লায় বাসার জায়গা কেনা এবং বিল্ডিং তৈরির সিদ্ধান্ত হয়। আব্বা ছিলেন জাঁদরেল আইনজীবী, পেশার প্রতি ছিলেন সিরিয়াস। অসহায় গরীব ক্লায়েন্টদের পক্ষেই সবসময় কাজ করতে পছন্দ করতেন, পরিবারের সদস্য করে নিতেন তাদের। যে কারণে নিজে কখনোই স্বচ্ছল হয়ে উঠতে পারেননি। আমাদের সাত-ভাইবোনকে শিক্ষিত করতে গিয়ে আব্বা থাকতেন কঠিন টানাপোড়েনে। আম্মা ছিলেন ঢাকা এলিফ্যান্ট রোডের শিক্ষিত অভিজাত পরিবারের দূহিতা, বউ হয়ে গেছেন সাধারণ কৃষক পরিবারে। তিনি সব দিক মেনটেইন করার চেষ্টা করলেও বাজেট ঘাটতি সংসারে অশান্তির কারণ হয়েই থাকতো। পিওর মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হিসেবে আমরা শেষ পর্যন্ত সমাজে বাবা মায়ের প্রত্যাশার প্রতিফলন কিছুটা হলেও দেখাতে পেরেছি, আলহামদুলিল্লাহ্।’

‘আকবর ভিলা’ নিয়ে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে আসিফ আরো লেখেন, ‘আব্বা তিলে তিলে কষ্ট করে গড়ে তুলেছেন এই ডুপ্লেক্স বাড়ি। উনার মেধা, শ্রম, ত্যাগ আর আম্মার সহনশীলতা ও দূরদর্শিতায় আমাদের আজকের অবস্থান। এই বাসায় বেড়ে উঠেছি আমরা, সব ভাই-বোনের বিয়েও হয়েছে এখানে, মরহুম আব্বা-আম্মার অনন্ত যাত্রাও এই বিল্ডিং থেকেই। আমার দাদার পরিবারের প্রতিটি সদস্যের আশা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দু ছিল এই আকবর ভিলা। এই বিল্ডিংয়েই জমা আছে আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের আরব্য রজনীর গল্প।’

সবশেষে দিলেন বাড়িটি ভেঙে ফেলার আভাস। আসিফের ভাষ্য, ‘৬৬ বছর বয়সী এ বাসাটা আজ ক্লান্ত, তাকেও দাফন করতে হবে। এক অসীম শূন্যতা বুকে চেপে ধরে পাঁচ প্রজন্মের এই ইতিহাসকে মিশিয়ে দিতে হবে মাটির সাথে; পরিণতি পাবে নতুন স্থাপনা। একদিন আমাদের সব গল্পও মিলিয়ে যাবে অনন্ত অসীমে, মুখরিত থাকবে না এই প্রাঙ্গন, তবুও চলতে থাকবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের পথচলা।’

আসিফের ওই পোস্টে কেউ কেউ বাড়িটি অক্ষত রাখার আবদার করেছেন। তবে আসিফ জানান, পুরনো বাড়িটি এখন ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে দরকারি সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে তাদের।

ইউডি/রেজা

melongazi

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading