রাম মন্দির ট্রাস্ট গঠন

রাম মন্দির ট্রাস্ট গঠন

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৩ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৬

হিন্দু সংগঠনগুলোর বিরোধ চরমে

ইন্ডিয়ার সর্বোচ্চ আদালত ভেঙে ফেলা বাবরি মসজিদের জমিতে একটি ট্রাস্ট গঠনের মধ্য দিয়ে রাম মন্দির নির্মাণ ও এর দেখভালের কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছে। তবে এই ট্রাস্টে কারা থাকবেন, তা নিয়ে  ইতোমধ্যেই ইন্ডিয়ার কট্টরপন্থী হিন্দু সংগঠনগুলির মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছেছে। এ তাদের মতপার্থক্য ও বাকযুদ্ধ প্রকাশ্যে আসার পর তাদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভের। এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে। বাবারি মসজিদ ভেঙে দেয়া নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন বিবাদে ইতি টেনে গত ৯ নভেম্বর অযোধ্যা নামে পরিচিত মামলার রায় ঘোষণা করেছে ইন্ডিয়ান সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত ২.৭৭ একর জমিতে গড়ে উঠবে রাম মন্দির। এ জন্য সরকারকে আগামী তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট করতে হবে। সেই ট্রাস্টই দেখভাল করবে মন্দির নির্মাণের বিষয়টি। সুপ্রিম কোর্টের রায় ঘিরে রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠী বিজেপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি মামলায় অংশগ্রহণকারী সংগঠনের সদস্যদের উল্লাস ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে ট্রাস্ট গঠন নিয়ে এবার জটিলতা শুরু হয়েছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে রাম জন্মভূমি আন্দোলনের অন্যতম নেতা ও রাম জন্মভূমি ন্যাসের সভাপতি নৃত্য গোপাল দাস বলেন, ‘মন্দির নির্মাণের জন্য নতুন করে ট্রাস্ট গঠনের প্রয়োজন নেই। এই কাজের জন্য ন্যাস রয়েছে, এটিই একটি ট্রাস্ট। এছাড়া এতে নির্মোহী আখড়ার মতো সংগঠনগুলি অংশ নিতে পারে।’ নৃত্য গোপালের প্রস্তাবে রাজি নন নির্মোহী আখড়ার মহন্ত ধীরেন্দ্র দাস। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ‘আমরা রাম জন্মভূমি নিয়ে ন্যাসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি। কী করে ন্যাসের একজন আশা করতে পারেন যে, নির্মোহী আখড়া, ন্যাস গঠিত ট্রাস্টের অংশীদার হবে? পারলে ওরা ওই ট্রাস্ট বিলোপ করে আমাদের ট্রাস্টের অংশীদার হোক।’ মহন্ত ধীরেন্দ্র দাসের কথায়, সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাস্টে সবাইকে অন্তর্ভূক্ত করুক। ভারতের সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট যে নির্মোহী আখড়াকে সেবাইত হিসেবে এক তৃতীয়াংশ জমির স্বত্ব দিয়েছিল, সে আখড়ার আর কোনও অধিকার নেই। আখড়ার দাবি খারিজ করে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ে, বিতর্কিত জমিতে নির্মোহী আখড়ার ঐতিহাসিক অস্তিত্ব স্বীকার করা হয়। কেন্দ্র গঠিত ট্রাস্টে তাদের রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়। আযোধ্যার আখড়াগুলির মধ্যে অন্যতম দিগম্বর আখড়া। এই আখড়ারই প্রধান ছিলেন পরমহংস রামচন্দ্র দাস। যিনি রাম জন্মভূমি ন্যাসেরও সভাপতি ছিলেন। ২০০৩ সালে তার মৃত্যু হয়। আখড়ার বর্তমান প্রধান মহন্ত সুরেশ দাস জানিয়েছেন, বুধবার (আজ) উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। বর্তমান ট্রাস্ট যাতে মন্দির নির্মাণ করতে না পারে তার জন্য আবেদন করবেন। যা রাম জন্মভূমি ন্যাসের দাবির বিরোধী। তবে ন্যাস সেই নির্দেশনা না মানলেই বিবাদমান হিন্দু সংগঠনগুলোর মধ্যে সংঘর্ষ তৈরির আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। যদিও আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, ৯ নভেম্বর থেকে আগামী তিন মাসের মধ্যে ১৯৯৩ সালের অযোধ্যা আইনের ৬ ও ৭ নম্বর ধারার আওতায় কেন্দ্রকে ট্রাস্ট গঠন করতে হবে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading