সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে আইন না মেনেই চলছে সিলিন্ডার গ্যাস মজুদ ও বিক্রি

সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে আইন না মেনেই চলছে সিলিন্ডার গ্যাস মজুদ ও বিক্রি

উত্তরদক্ষিণ অনলাইন । ১২ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ২০ঃ৫৫


সরকারী আইন না মেনেই সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে চলছে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবসা ও ব্যবহার। পাড়া-মহল্লা ও আবাসিক ভবনের নিচে রাস্তার পাশে যত্রতত্র গড়ে উঠেছে খুচরা সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির দোকান। এসব দোকানীরা বিস্ফোরক আইন না মেনেই মজুদ ও বিক্রি করছেন সিলিন্ডার। পরিবহনের ক্ষেত্রেও কোন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে না। এতে করে যে কোন মূহুর্তে বড় ধরনের বিস্ফোরণে প্রাণ হানির আশংকা করছেন সচেতন মহল। অপরদিকে, সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বিভিন্ন সময় প্রাণ হানির ঘটনা ঘটছে। এদিকে, প্রয়োজনীয় লোকবলের অভাবে বিস্ফোরক পরিদপ্তদরের বিভিন্ন কার্যক্রম এমনকি মনিটরিং ব্যবস্থা নাজুক বলে স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ঢাকা জেলার জনবহুল এলাকা সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে গড়ে উঠেছে শত শত সিলিন্ডার গ্যাস খুচরা বিক্রয়ের দোকান। এসব দোকানীরা কোম্পানী থেকে ডিলার নিয়ে নিয়ম না মেনেই যত্রতত্র মজুদ করে থাকেন দাহ্য গ্যাসের সিলিন্ডার। খোলা ট্রাকে করে এসব ব্যবসায়ীরা সিলিন্ডার এনে তা সাজিয়ে রাখেন রাস্তার পাশে আবাসিক ভবনের নিচে গুদাম ও দোকানে। গ্যাস মজুদের ক্ষেত্রে এসব দোকান ও গুদামে নেই অগ্নি নির্বাপন ব্যবস্থা। এছারাও ডিলার না হয়েও রাস্তার পাশে গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে ব্যবসা করে আসছেন শত শত ব্যবসায়ীরা। সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতনতার অভাব ও ক্রটিপূর্ণ সিলিন্ডারের কারনে প্রায়ই সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পনগরীর আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরণে প্রাণ হানির ঘটনা ঘটছে। আহত হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন অনেকেই। জানাগেছে,২০০৪ সালে বিস্ফোরক অধিদপ্তর থেকে বিধিমালার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বিধিমালা ১৯৯১ অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডারের রং পরিবর্তন বা রংহীন সিলিন্ডার অথবা সিলিন্ডারের গায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য বিহীন বিক্রি বা ব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। রোদে বা তাপে গ্যাস সিলিন্ডার রাখার কোন বিধি নেই। সিলিন্ডারে ক্ষতিকর কোন আঘাত লাগানো যাবেনা। ক্ষতিকর তাপের প্রভাবমুক্ত থাকে এবং বায়ূ চলাচলের পথ আছে এমন স্থানে সিলিন্ডার মজুদ করতে হবে। আচ্ছাদিত মজুদাগার হতে হবে। অদাহ্য পদার্থ দ্বারা মজুদাগার তৈরী করতে হবে। শূন্য সিলিন্ডার এবং ভর্তি সিলিন্ডার আলাদা রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক তার বা সংযোগের ক্ষেত্রেও বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে। এমনি অনেক বিধিমালা থাকলেও এসব কোন আইনের তোয়াক্কা না করেই সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে যত্রতত্র দাহ্য গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ, বিক্রি ও ব্যবহার চলছেই। যা দেখার কেউ নেই বলে মত দিয়েছেন সচেতন মহল। এ ব্যাপারে বিস্ফোরক পরিদপ্তর ঢাকার পরিদর্শক মনিরা ইয়াসমিন জানান, জ্বালানী গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনসহ বিভিন্নভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। যত্রতত্র গ্যাস সিলিন্ডার রাখাটা খুবই ঝুকিপূর্ণ। কেউ আট থেকে দশটি সিলিন্ডার বিক্রি করলে তার জন্য লাইসেন্সের প্রয়োজন হয়না। এর উপরে কেউ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করলে অবশ্যই বিস্ফোরক পরিদপ্তর থেকে তাকে লাইসেন্স গ্রহণ করতে হবে। তবে, এই কর্মকর্তা জনবলের তীব্র সংকটের কথা বলে আরো জানান, প্রয়োজনীয় জনবল থাকলে নিয়মিত মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হত। এতে করে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা যেত

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading