সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গাঁ

সংসদে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গাঁ

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:২৯

বিবৃতি দিয়ে বক্তব্য প্রত্যাহার ও শহীদ নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের কাছে দুঃখ প্রকাশের পর এবার জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলেন জাতীয় পার্টির (জাপা) বিতর্কিত মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। গতকাল বুধবার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২৭৪ বিধিতে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চান তিনি। সংসদে দাঁড়িয়ে মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ বলেন, ‘১০ নভেম্বর গণতন্ত্র দিবস নিয়ে জাতীয় পার্টির অভ্যন্তরীণ একটি ছোট সভা ছিল। বাইরে কোনো মাইক ছিল না। একই দিনে নূর হোসেন দিবসও ছিল। পুরোনো ঢাকা থেকে কিছু লোক অনুষ্ঠানে এসেছিল। আসার পথে তারা শুনতে পায় নূর হোসেনের চত্বরে এরশাদকে গালাগালি করা হয়। এরশাদের দুই গালে জুতো মারো তালে তালে- এ ধরনের কিছু কথা বার্তা শোনার পরে তারা অনুষ্ঠানে এসে তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। আমি দলের মহাসচিব হিসেবে তাদের শান্ত থাকতে বলি।’ রাঙ্গাঁর বক্তব্য এ পর্যন্ত আসার পর সংসদে এমপিরা হইচই শুরু করেন। তখন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ রাঙ্গাঁকে বক্তব্য চালিয়ে যেতে বলেন। এরপর রাঙ্গাঁ বলেন, সংসদে আমাকে নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমি মনে করি, জ্যেষ্ঠ হিসেবে তারা আমাকে শাসন করেছেন। জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমি একটা ভুল করেছি। এ জন্য আমি নূর হোসেনের পরিবারের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছি। এটা নিয়ে আমি বিবৃতিও দিয়েছি।’ ‘সংসদে দাঁড়িয়ে আমি অজস্রবার জয় বাংলা বলেছি, জাতির পিতা বলেছি। জাতির পিতাকে নিয়ে কোনো রকম ভুল বলে থাকলে এর জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। আমি জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাই,’ বলেন রাঙ্গাঁ। এসময় তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীকে সন্ত্রাসবাদ-দুর্নীতিবাজ এগুলো বলেননি। বলেছেন বিশ্বজিত্ হত্যা, জেলখানার হত্যার বিচার হয়েছে। ক্যাসিনোরও বিচার হয়েছে। ১৯৯০ সালের পরে যখন খালেদা জিয়ার সময় কৃষক হত্যার কথা, একুশ আগস্ট তত্কালীন বিরোধী দলীয় নেতাকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলার কথা বলেছেন। তারপরও ভুল করে থাকলে তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা চাইছেন। সবাইকে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেন তিনি। সংসদে রাঙ্গাঁ এদিন আরও বলেন, আমি মনে করি আমার দল ক্ষমতায় এলেও আমি মন্ত্রী হতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মন্ত্রী করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্নেহ করেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এই ভালো সম্পর্কই থাকবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেন।

রাঙ্গাঁ বলেন, ‘নূর হোসেন কিন্তু মৃত্যুবরণ করেছেন। এরশাদ সাহেব গুলি করে মারুন বা না মারুন, এটা সত্য যে, উনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার মায়ের কাছে ক্ষমা চেয়ে আমি পত্র দিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা যেহেতু একসাথে অ্যালায়েন্স করে নির্বাচনে এসেছি, আমার যদি কোনো ভুলত্রুটি হয় তা আপনারা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’ নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনকে গত রবিবার ‘ইয়াবাখোর ও ফেনসিডিলখোর’ বলে দেশব্যাপী তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন জাপা মহাসচিব রাঙ্গাঁ। পরে মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি ওই বক্তব্যের জন্য অনুতপ্ত হয়েছেন উল্লেখ করে দুঃখ প্রকাশ করেন। সেই সঙ্গে নিজের বক্তব্য প্রত্যাহারও করেন তিনি বিবৃতিতে। তবে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীকে নিয়েও আপত্তিকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে রাঙ্গাঁর বিরুদ্ধে। ফলে সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি ওঠে জাতীয় সংসদে। মঙ্গলবার সরকারি দলসহ নিজ দল জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্যদেরও তীব্র সমালোচনায় তুলোধোনা হন রাঙ্গাঁ। তবে ওই দিন তিনি সংসদে উপস্থিত ছিলেন না। বুধবার সংসদ অধিবেশন শুরু হলে তাতে যোগ দেন মসিউর রহমান রাঙ্গাঁ। পরে তিনি পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ক্ষমা চেয়ে নিলেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading