বাংলা-ইন্ডিয়া ঐতিহাসিক ম্যাচ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলা-ইন্ডিয়া ঐতিহাসিক ম্যাচ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৩ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৪

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে ঘন্টা বাজিয়ে ইডেন গার্ডেনে বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার মধ্যকার টেস্ট ম্যাচের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। স্থানীয় সময় গতকাল শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দুপুর ১২টা ৫৫ মিনিটে ভিভিআইপি গ্যালারিতে রক্ষিত ঘন্টা বাজিয়ে ইন্ডিয়াতে প্রথম দিবা-রাত্রির এই ঐতিহাসিক টেস্ট ম্যাচ উদ্বোধন করেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় খেলার আগে দুই দেশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচিত হন। পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড.একে আব্দুল মোমেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এমপি, ইন্ডিয়ার ক্রিকেট কিংবদন্তী শচিন টেন্ডুলকার, ইন্ডিয়ান ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই)-র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলিসহ ইন্ডিয়া এবং বাংলাদেশের মধ্যে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্ট ম্যাচে অংশগ্রহণকারী উভয় দেশের খেলোয়াড়বৃন্দ এ সময় মাঠে উপস্থিত ছিলেন। গোলাপি বলে প্রথমবারের মত পাচ দিনের টেস্ট ম্যাচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে যেন পুরো ইডেন গার্ডেনকে বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত করা হয়। ফেয়ার প্লে প্ল্যাকার্ডবাহী শিশুর থেকে শুরু করে স্কোর বোর্ড এমনকি ম্যাচের টস কয়েনটিও গোলাপি বর্ণের ছিল। বাংলাদেশের অধিনায়ক মমিনুল হক টস জিতে ব্যাটিং এর সিদ্ধান্ত নেন। প্রধানমন্ত্রী পরে প্রথম সেশনের খেলা উপভোগ করেন। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এরআগে প্রধানমন্ত্রী ক্রিকেটের ঐতিহ্যবাহী ভেন্যু কলকাতার ইডেন গার্ডেনে পৌঁছলে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় এবং বিসিসিআই সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি তাকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচের প্রথম সেশনের খেলা দেখার পর তার আবাসস্থল হোটেলে ফিরে যান। এরপর গতকাল রাত দশটায় বিমান বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশ্যে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দর ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী। ফ্লাইটটি রাত সাড়ে এগারোটায় ঢাকায় হয়রত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছায়।

ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতায় ঐতিহাসিক দিবা-রাত্রির এই টেস্ট ম্যাচ দেখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। এর আগে বিসিসিআই’র সভাপতি সৌরভ গাঙ্গুলি কলকাতায় দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাচ খেলা দেখতে ইন্ডিয়ার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল নিতে চান মমতা: বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গতকাল শুক্রবার বিকেলে কলকাতার হোটেল তাজ বেঙ্গলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত্ করে এই আগ্রহের কথা জানান মমতা। পরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন তাদের বৈঠকে আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেলের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। আমরা বাংলাদেশ থেকে বাইসাইকেল আমদানি করতে আগ্রহ প্রকাশ করছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, বাংলাদেশের কোনো ব্যবসায়ী চাইলে পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেল তৈরির কারখানা করতে পারেন। এক্ষেত্রে তাদের জমি দিয়ে সহায়তা করা যেতে পারে।কোনো ব্যবসায়ী বাংলাদেশ সীমান্তে বাইসাইকেল কারখানা করে পশ্চিমবঙ্গে বাইসাইকেল আমদানি করলে তাদের পরিবহন খরচ কম হবে।” বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের সমাজকল্যাণ বিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরে বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সংস্কৃতি, শিল্প এসব ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে পারে। পুরো ভারতের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ এবং পশ্চিমবঙ্গে শতভাগ শিক্ষার্থী বৃত্তির আওতায় রয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রীকে জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রায় দুই কোটি শিক্ষার্থীর বৃত্তি পাওয়ার কথা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের বৃত্তির টাকা মায়েদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।  কলকাতা সফর করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাক্ষাতে পরস্পর শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তারা। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সাক্ষাতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী উপস্থিত ছিলেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading