বুয়েটের ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৩ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩২
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলার চার্জশিটভুক্ত ২৫ আসামিসহ ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার করেছে বুয়েট প্রশাসন। বুয়েটের আরও ছয় শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে বুয়েটের অধ্যাপক মিজানুর রহমান খান সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পরে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতর এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে। আবরার হত্যায় জড়িতদের তাত্ক্ষণিকভাবে সাময়িক বহিষ্কার এবং চার্জশিটে নাম এলে স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি ছিল আবরার হত্যার পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনে। সেই দাবি মেনে আন্দোলনের সময়ই এসব শিক্ষার্থীদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। পরে গত ১৩ নভেম্বর আদালতে আবরার হত্যা মামলার চার্জশিটে বুয়েটের ২৫ শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়। তাদের সবাইকেই আজীবনের জন্য বহিষ্কার করলো বুয়েট প্রশাসন। ২৬ শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কারের বিষয়ে জানতে চাইলে বুয়েটের আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে আমাদের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানানো হবে। বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের সদস্য সচিবের (বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন) সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে (নং ডি. এস. ডব্লিউ/ডি-৩৪) বলা হয়, আবরার ফাহাদ হত্যার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) বোর্ড অব রেসিডেন্স অ্যান্ড ডিসিপ্লিন ওই ঘটনায় অভিযুক্ত ২৬ জনকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আজীবনের জন্য (স্থায়ীভাবে) বহিষ্কার করেছে। এর মধ্যে ২৫জন পুলিশের অভিযোগপত্র অনুযায়ী অভিযুক্ত। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে আরও ছয় জনকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। আজীবন বহিষ্কৃত যে ২৬ শিক্ষার্থী: মেহেদী হাসান রবিন (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), মো. অনীক সরকার (১৫তম ব্যাচ), ইফতি মোশাররফ সকাল (বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মো. মনিরুজ্জামান মনির (পানিসম্পদ, ১৬তম ব্যাচ), মো. মেফতাহুল ইসলাম জিয়ন (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৫তম ব্যাচ), মো. মোজাহিদুর রহমান (ইইই, ১৬তম ব্যাচ), মেহেদী হাসান রাসেল (কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৩তম ব্যাচ), এহতেশামুল রাব্বী (তানীম)
(সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৭তম ব্যাচ), খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম (তানভীর) (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মনতাসির আল জেমি (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, বিভাগ, ১৭ তম ব্যাচ), এ এস এম নাজমুস সাদাত (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৭তম ব্যাচ), মো. শামীম বিল্লাহ (মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৭তম ব্যাচ), মোর্শেদ অমর্ত ইসলাম (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৭তম ব্যাচ), হোসাইন মোহাম্মদ তোহা (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৭তম ব্যাচ), মুজতবা রাফিদ (১৬তম ব্যাচ), মো. মিজানুর রহমান (১৬তম ব্যাচ), মো. আশিকুল ইসলাম (১৬তম), এস এম মাহমুদ (১৪তম ব্যাচ), ইশতিয়াক অহমেদ (মুন্না) (১৫তম ব্যাচ), অমিত সাহা (১৬তম ব্যাচ), মাজেদুর রহমান (এমএমই বিভাগ, ১৭তম ব্যাচ), মো. শামসুল আরেফিন (১৭ তম ব্যাচ), মোয়াজ আবু হোরায়রা (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৭তম ব্যাচ), মো. আকাশ হোসেন (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৬তম ব্যাচ), মো. মোর্শেদ-উজ-জামান মন্ডল (১৬তম), মুহতাসিম ফুয়াদ (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ১৪তম ব্যাচ)। শাস্তিপ্রাপ্ত অন্য ৬ শিক্ষার্থী: আবু নওশাদ সাকিব (১৭ তম ব্যাচ), মো. সাইফুল ইসলাম (১৭ তম ব্যাচ), মো. গালীব (১৭ তম ব্যাচ), মো. শাওন মিয়া (১৭ তম ব্যাচ), সাখাওয়াত ইকবাল অভি (১৭তম ব্যাচ) মো. ইসমাইল (১৬ ব্যাচ)। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তড়িেকৗশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন আবরার ফাহাদ। শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমের আবাসিক শিক্ষার্থী ছিলেন তিনি। গত ৬ অক্টোবর রাতে তাকে রুম থেকে ডেকে নিয়ে যান বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতা। ওই হলেরই ২০১১ নম্বর রুমে নিয়ে তাকে বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার তথ্য জানিয়েছেন ছাত্রলীগের নেতারাই। পরে আর রুমে ফিরে আসেননি আবরার। ৭ অক্টোবর ভোর ৪টার দিকে তার নিথর দেহ পাওয়া যায় হলের সিঁড়ির নিচে। তার পুরো শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। সহপাঠীদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের নেতারা পিটিয়ে মেরে ফেলেছেন আবরারকে। ছেলেকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান রাসেলসহ ১৯ জনের নামে চকবাজার থানায় ৭ অক্টোবর রাতেই মামলা দায়ের করে ছিলেন আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ।

