যুবলীগের সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কড়াবার্তা ‘দুর্নীতি করলে ছাড় নেই’
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৪ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩০
মিলন গাজী ষ অন্যায়, দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে আবারও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘অনেক কষ্ট করে দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কিন্তু কেউ সেই অর্জন অন্যায় দুর্নীতির মধ্য দিয়ে নষ্ট করবে- তা সহ্য করবো না। সে যেই হোক- তাকে প্রতিহত করা হবে।’ গতকাল শনিবার (২৩ নবেম্বর) রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পদ্মা সেতুর আদলে আওয়ামী যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেসের মঞ্চে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী সম্মেলন উদ্বোধন করেন।
যুবলীগের সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। কারণ একটি সংগঠনে আদর্শ থাকলে তারা সফল হতে পারে। সেটি সবাই মাথায় রাখবেন।’ ভাবমূর্তি সঙ্কটে থাকা যুবলীগের নেতাদের ত্যাগের রাজনীতির মন্ত্রও দিলেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমাদের সবাইকে এ কথাটা মনে রাখতে হবে- ভোগে নয় ত্যাগেই হচ্ছে মহত্ব। কী পেলাম কী পেলাম না, সে চিন্তা না। কতটুকু মানুষকে দিতে পারলাম, কতটুকু মানুষের জন্য করতে পারলাম, কতটুকু মানুষের কল্যাণে কাজ করলাম, সেটাই হবে রাজনীতিবিদের চিন্তা-ভাবনা। আমাদের যুব সমাজকে আমরা সেভাবে গড়ে তুলতে চাই।” ক্যাসিনোকাণ্ডে যুবলীগের বেশ কয়েকজন নেতার জড়িত থাকার তথ্য প্রকাশের পর তাদের গ্রেপ্তার করা হয়, সংগঠন থেকেও বহিষ্কৃত হন তারা। যুবলীগের সাংগঠনিক নেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “একটা দেশ গড়ে তুলতে হলে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন আমাদের যুব সমাজের মেধা, তাদের শক্তি, তাদের মননকে কাজে লাগানো। একজন রাজনীতিবিদ যে হবে, তার জীবনের সেই আদর্শ থাকতে হবে।” বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনে যুবলীগের নেতাকর্মীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “আদর্শ নিয়ে চলতে হবে। উড়ে এসে জুড়ে বসে ক্ষমতার উচ্ছিষ্ট বিলিয়ে এই সংগঠন গড়ে ওঠে নাই। সংগঠন গড়ে উঠেছে নির্যাতিত মানুষ, শোষিত মানুষ, বঞ্চিত মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম করবার লক্ষ্য নিয়ে। সেই আদর্শ থেকে কখনও যদি কেউ বিচ্যুত হয়ে যায়, তাহলে দেশকে কিছু দিতে পারে না।” চলমান শুদ্ধি অভিযান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, “দুর্নীতি করে টাকা বানাতে পারে। চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী করে অনেক টাকা বানাতে পারে। এই টাকা দিয়ে হয়ত জৌলুস করতে পারে, চাকচিক্য বাড়াতে পারে। কিন্তু সেটা দিয়ে মানুষের হূদয় জয় করা যায় না। তাতে সম্মান পাওয়া যায় না।” লোভ-লালসার ঊর্ধ্বে থেকে একজন রাজনীতিক কীভাবে আদর্শ নিয়ে চলতে পারেন, তা জানার জন্য জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ ও জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা যেসব প্রতিবেদন তৈরি করেছিল, তা নিয়ে করা প্রকাশনাগুলোও পড়ার পরামর্শ দেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।
১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্টের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল, তারা দেশের মানুষের জন্য কিছু করতে পারেনি মন্তব্য করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমরা পারলাম। কেন পারলাম? আমরা আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেছি দেখেই পেরেছি।’ মাদক, সন্ত্রাস, দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ সততার সঙ্গে সফলভাবে মোকাবিলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেখা গেল একটা ব্যাংকের এমডির পদ ছাড়তে পারে না, এদিকে নোবেল প্রাইজ পায়! সেই পদ কেন বয়সের কারণে ছাড়তে হলো- সেই প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য পদ্মা সেতু বন্ধ করার জন্য আমেরিকায় গিয়ে ধরণা দিল। তারা আমাদের ওপর দোষ দিলো দুর্নীতির। আমি চ্যালেঞ্জ দিলাম এবং সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেছি।’

