দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি সেক্টরেই কাজ করছে দুদক
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৫ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:০৬
দুর্নীতির ব্যাপকতা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে প্রতিটি খাতেই কমিশন কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেছেন, ‘আমরা হয়তো আজই সবাইকে ধরতে পারব না। তবে প্রতিকারমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সবার কাছে একটি বার্তা দিতে সক্ষম হয়েছি, আজ হোক কাল হোক, সবাইকে জবাবদিহি করতে হবে। দুদকে অনেককেই আসতে হচ্ছে, অনেককেই আসতে হবে।’ গতকাল রোববার সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে যুক্তরাজ্যের উন্নয়ন সংস্থা ডিপার্টমেন্ট ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্টের (ডিএফআইডি) সুশাসন সংক্রান্ত দলনেতা এইজলিন বাকেরের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল দুদক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সাক্ষাত করতে আসলে তিনি এসব কথা বলেন। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, দুর্নীতি দমনে সমন্বিত অঙ্গীকারের প্রয়োজন। কর্মপ্রক্রিয়ায় ব্যক্তি পরিবর্তন হতে পারে, কিন্তু কর্মপ্রক্রিয়ার পরিবর্তন সুশাসনের জন্য সত্যিই অন্তরায়। দুদক চেয়ারম্যান বলেন, কমিশন শুধু প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নয়, প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে, যাতে দুর্নীতির ঘটনা ঘটার আগেই তা প্রতিরোধ করা যায়। কমিশনের অভিযোগ কেন্দ্রের হটলাইন-১০৬-এর তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে লাখ লাখ অভিযোগ আসছে। অধিকাংশ অভিযোগ কমিশন আইনের তফসিলভুক্ত না হলেও মানুষ তাদের অভিযোগ জানানোর একটি প্লাটফর্ম পেয়েছে। তারা তাদের কথা জানাতে পারছে। কমিশন থেকেও যতটা সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মানুষের ক্ষোভ জানানোর একটি মাধ্যম হিসেবে ১০৬ ব্যবহূত হচ্ছে। ডিএফআইডির সদস্যরা বিভিন্ন সংস্থার নিয়োগসহ অন্যান্য দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ২০১৮ সালে পুলিশ বিভাগের যে নিয়োগ হয়েছে, তা যথেষ্ট স্বচ্ছ হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, পুলিশের সঙ্গে কমিশনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। পুলিশের যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো তদন্ত করা হচ্ছে। এসব তদন্তে পুলিশের তরফ থেকে সহযোগিতার কোনো ঘাটতি নেই। শুধু পুলিশ নয়, প্রশাসন, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী যাঁর বিরুদ্ধেই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বলতে গেলে সব সেক্টরেই কাউকে না কাউকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ইকবাল মাহমুদ বলেন, কমিশন শিক্ষাসহ ২৮টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াগত সংস্কারের জন্য সুপারিশ সরকারের কাছে পেশ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ইতিমধ্যে এ-জাতীয় ১৩টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিবেদন সরকারের কাছে পেশ করা হয়েছে। ডিএফআইডি’র সুশাসন বিষয়ক উপদেষ্টা তানভীর মাহমুদ, মোহাম্মদ ইউসুফ, দুদকের প্রশিক্ষণ ও আইসিটি অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

