আসামির মাথায় আইএসের টুপি কীভাবে এলো?

আসামির মাথায় আইএসের টুপি কীভাবে এলো?

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ২৮ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৬

হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর আসামিদের প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এসময়ে একজন আসামির মাথায় ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর একটি লোগো সম্বলিত টুপি দেখা গেছে। যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে। কারাগারে বন্দি থাকা আসামি কোথায় পেলেন ওই বিশেষ টুপি? সে প্রশ্ন করা হয়েছিলো রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌসুলি আবদুল্লাহ আবুকে। তিনি নিজেও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, কোথায় পেলেন আসামি এই টুপি! এর আগে ঢাকার দায়রা জজ আদালত ভবনে সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুন্যালে মামলার সাত জন আসামির ফাঁসি ও একজনকে খালাস দেন বিচারক মো. মজিবুর রহমান। পরে আসামিদের যখন এজলাস থেকে বের করে আনা হচ্ছিলো তখন থেকেই ঐদ্ধত্য দেখাচ্ছিলেন। সংবাদকর্মীদের প্রতি অশ্রাব্য কথাও বলছিলেন এবং উগ্রবাদী বক্তৃতা করছিলেন কেউ কেউ। যে আসামির মাথায় আইএস’র টুপিটি পরা ছিলো তার নাম রকিবুল হাসান রিগান। জঙ্গিদের অস্ত্র প্রশিক্ষক বলেই তার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আদালত চত্ত্বরে আইএসের পতাকা সরবরাহ করায় রাষ্ট্রপক্ষের অন্য আইনজীবীরাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী আব্দুল্লাহ আবু প্রশ্ন করে বলেছেন, এই ঘটনা অভাবনীয়। আসামিরা আইএসের টুপি কোথায় পেল? আদালত চত্ত্বরে কারা তাদেরকে আইএসের পতাকা সরবরাহ করেছে? টুপি কোথায় পেয়েছে রিগান- তা জানেন না পুলিশেরও কেউ। টুপি পরার বিষয়টি উর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে বলে বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক গোয়েন্দা পুলিশের একজন সদস্য।

আইএস’র কোনও টুপি নেই: মনিরুল ইসলামহলি আর্টিজান হামলা মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত এক আসামি আদালত চত্বরে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসের পতাকার আদলে টুপি পরার বিষয়ে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেছেন, ‘আদালত প্রাঙ্গণে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি টুপি পরেছে। সেটাতে লেখা আছে, ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মদ (সা.) আল্লাহর রাসুল’। তবে এটি আইএসের টুপি নয়। গতকাল বুধবার দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে গুলশান হামলা মামলার রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন। মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার জানামতে, আইএস কোনও টুপি তৈরি করেছে, পৃথিবীর কোথাও এরকম দৃষ্টান্ত নেই।’ তিনি বলেন, ‘এটি একটি টুপি। সেটিতে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ লেখা। সেটি আইএসের পতাকার নির্দেশক হবে কিনা, তা বিশ্লেষণের ব্যাপার। তারপরও এটি কোথা থেকে, কীভাবে এলো, সেটি আমরা তদন্ত করে দেখবো।’ সিটিটিসি প্রধান বলেন, ‘কালো কাপড় ব্যবহার করা যেকোনও জঙ্গি সংগঠনের রেওয়াজ। আল-কায়দার জঙ্গিরাও কালো কাপড়ে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ লেখে। ফলে টুপিতে ‘লাইলাহা ইল্লাল্লাহু’ লিখলেই কোনও কিছু বোঝা যায় না।’ মনিরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘টুপি বানানোর ধারণা আইএস প্রধান আবু বকর আল বাগদাদির মাথায়ও আসেনি। এই ক্ষেত্রে আমরা বিশ্লেষণ করে দেখবো এটি আইএসের টুপি কিনা।’ আদালত চত্বর ও কাঠগড়ায় জঙ্গিদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচারণের সমালোচনা করে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘জঙ্গিরা আদালত প্রাঙ্গণে যে বক্তব্য দিয়েছে, প্রিজনভ্যানে যে বক্তব্য দিয়েছে, এতে প্রমাণিত হয় তারা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। এর পক্ষেই তারা কথা বলেছে। এটি তাদের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া।’ তিনি বলেন, ‘যারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে এবং বিভিন্ন সময় পরিকল্পনায় অংশ নিয়েছে, এই ২১ জনকে মানুষের পর্যায়ে ফেলা যায় না। এদের কোনও মনুষ্যত্ব নেই। এতবড় নৃশংস হত্যাকাণ্ড যারা ঘটাতে পারে, সেটি আবার ধর্মের নামে জাস্টিফাই করে! তারা মানবতার বিরুদ্ধে কাজ করেছে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কাজ করেছে এবং ধর্মের বিরুদ্ধে কাজ করেছে।’ মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের বার্তা আমরা আদালত প্রাঙ্গণে লক্ষ করেছি। দেশের সাধারণ মানুষ তাদের ঘৃণা করছেন। তাদের এই মেসেজ মানুষের মনে কোনও প্রভাব ফেলবে না।’ জঙ্গিদের এই আচরণে সাধারণ মানুষ আরও বেশি তাদের ঘৃণা করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading