ইরানি কনস্যুলেটে হামলা
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ৩০ নভেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৫৬
মূল পরিকল্পনায় আমেরিকা ইসরাইল ও সৌদি আরব
ইরাকের নাজাফ শহরে অবস্থিত ইরানি কন্স্যুলেট ভবনে গতরাতে একদল মুখোশধারী দুষ্কৃতকারী হামলা চালায় এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। ইরাকে গত প্রায় দুই মাস ধরে চলে আশা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি বর্তমানে সেদেশের জন্য নিরাপত্তা সংকটে পরিণত হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা এ পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারী ১২০টির বেশি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করেছে। এসব ধ্বংসযজ্ঞ ও সহিংসতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের চাওয়া ও প্রতিবাদ কর্মসূচির কোনো সম্পর্ক নেই। বলা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে ইরাককে সহিংসতার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা মুখ ঢেকে রেখে ইরাকে সহিংসতা ও তাণ্ডব চালাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত প্রতিবাদ কর্মসূচির আড়ালে একদল চক্রান্তকারী যতটানা না সরকার পরিবর্তন, সংস্কার, দুর্নীতি প্রভৃতির বিরুদ্ধে কথা বলছে তার চাইতে তাদের বড় উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরান ও ইরাকের ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দেয়া। ইরাকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে নাজাফে ইরানি কন্স্যুলেট ভবনে হামলার ঘটনা ছাড়াও ইরাকের জনপ্রিয় ধর্মীয় নেতাদের দফতরে হামলা এবং প্রকাশ্যেই ধর্মীয় নেতাদেরকে অবমাননার ঘটনা ঘটেছে। এ অবস্থায় কারা ইরাকের ধর্মীয় নেতাদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে এবং ইরানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। এ ছাড়া, দুষ্কৃতকারীদেরকে কারা পৃষ্ঠপোষকতা দিচ্ছে? কারা গতকাল নাজাফে এবং এক মাস আগে কারবালায় ইরানি কন্স্যুলেটে হামলা চালিয়েছে? ইরাকের জনগণ সেদেশে সৌদি আরব ও মার্কিন হস্তক্ষেপের বিরোধী হলেও কেন ওই দেশগুলোর কূটনীতিকরা হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়নি সেসব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

