গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে ২১%!

গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ছে ২১%!

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০২ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪০

পাইকারি দাম বাড়ানোর আনুপাতিক হারে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুত্ন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। এই মুহূর্তে ২১ শতাংশ বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি পেলে সামগ্রীক জীবনযাত্রায় তার নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এতে মানুষের ব্যয়ভার বাড়বে পাল্লা দিয়ে, যা নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হবে। গত রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাজধানীর কাওরান বাজারে টিসিবি অডিটোরিয়ামে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম নিয়ে অনুষ্ঠিত বিইআরসি’র গণশুনানিতে দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব তুলে ধরেন বিপিডিবি’র চেয়ারম্যান প্রকৌশলী খালেদ মাহমুদ। এ সময় বিইআরসি’র চেয়ারম্যান মনোয়ার ইসলাম, সদস্য রহমান মুর্শেদ, সদস্য মিজানুর রহমান, সদস্য  মাহমুদউল হক ভুঁইয়া শুনানি গ্রহণ করেন। শুনানিতে পিডিবির পক্ষ থেকে দাম প্রস্তাব উপস্থাপন করেন সংস্থার জেনারেল ম্যানেজার কাউসার আমীর আলী। অন্যদিকে, মূল্যায়ন কমিটির পক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন কমিশনের উপপরিচালক (ট্যারিফ) মো. কামরুজ্জামান। শুনানিতে বিইআরসির মূল্যায়ন কমিটি প্রিপেইড গ্রাহকের কাছ থেকে রিবেট ছাড়া আয়কে বিদ্যুত্ বিক্রয়ের আয় হিসেবে দেখানোর সুপারিশ করে।  উল্লেখ্য, প্রিপেইড গ্রাহকরা একভাগ বিদ্যুতের দাম ছাড় পায়। এ হিসাবেই আলাদাভাবে পরিমাণ দেখাতে বলেছে কমিশন। দেশের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বিদ্যুত্ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ফিডারগুলোর লোড নির্ধারণ করে ন্যাশনাল লোড ডেসপাস সেন্টারকে (এনএলডিসি) আলাদাভাবে জানানোর প্রস্তাব করা হয়। শুনানিতে শহরের প্রান্তিক মানুষের জন্য বিদ্যুতের দাম নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখতে বস্তিতে আলাদা মিটার দেওয়া সম্ভব কিনা, তা জানতে চান ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম। তিনি বলেন, ‘বস্তিতে দরিদ্র মানুষ বেশি বিদ্যুত্ বিল দেয়। একটি মিটারের অধীনে অনেকগুলো ঘরে লাইন দেওয়া হয়।’ তিনি জানতে চান, এ সমস্যা সমাধান করা সম্ভব কিনা? জবাবে পিডিবি জানায়, বস্তিতে আলাদা লাইন দেওয়া সম্ভব। ঢাকার বিহারি ক্যাম্প ও চট্টগ্রামের সুইপার কলোনিতে এভাবে বিদ্যুতের মিটার দেওয়া হয়েছে। সেভাবে বস্তিতেও আলাদা প্রিপেইড মিটার দেওয়া যেতেই পারে। শামসুল আলম বলেন, ‘সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো বছরের পর বছর বিল দেয় না। কিন্তু তাদের বিদ্যুতের লাইন কাটা হয় না।’ এ সময় ক্যাবের পক্ষ থেকে সিবিএ (শ্রমিক সংগঠন)-এর কার্যক্রম বন্ধের আবেদন করা হলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয়  কমিটির সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স এর প্রতিবাদ জানান। দুপুর পর্যন্ত পিডিবির প্রস্তাবের ওপরে শুনানি চলে। এরপর দুপুর ২টায় শুরু হবে নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) শুনানি। সোমবার (২ ডিসেম্বর) সকালে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) এবং দুপুরে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।  মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) এবং দুপুরে ওয়েস্টজোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) গ্রাহক পর্যায়ের দাম পরিবর্তনের ওপর গণশুনানি রয়েছে।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading