রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা নিয়ে হিউম্যান রাইটস’র প্রতিবদেন ‘মিথ্যাচার’ বললেন ত্রাণ কমিশনার

রোহিঙ্গা শিশুদের শিক্ষা নিয়ে হিউম্যান রাইটস’র প্রতিবদেন ‘মিথ্যাচার’ বললেন ত্রাণ কমিশনার

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৪ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩২

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলছে, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে শিশুদের অর্থপূর্ণ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করার জন্য বিভিন্ন সাহায্য সংস্থাকে ‘বাধা দেওয়া হচ্ছে’ এবং শিশুরা যাতে ক্যাম্পের বাইরের স্কুলেও পড়তে না পারে সে ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক এই মানবাধিকার সংস্থাটি গতকাল মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে বলছে, বাংলাদেশের সরকারের উচিত জরুরি ভিত্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া। খবর বিবিসির। মার্কিন সংস্থাটি বলছে, প্রায় চার লাখের মতো রোহিঙ্গা শিশু, তাদের শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে- যেটা বেআইনি। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এর জবাবে জানানো হয়েছে রোহিঙ্গা শিশুদের লেখাপড়ায় কোনো বাধা নেই। বিবিসি বলছে, ৮১ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সাহায্যকারী সংস্থাগুলোকে নিষিদ্ধ করছে, যাতে করে তারা কক্সবাজার জেলায় রোহিঙ্গা শিশুদের আনুষ্ঠানিক শিক্ষা দিতে না পারে। এর ফলে রোহিঙ্গা শিশুরা বাংলা ভাষা এবং বাংলাদেশের শিক্ষা কারিকুলাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। রোহিঙ্গা শিশুদের ক্যাম্পের বাইরে কোনও সরকারি, বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করার সুযোগ নেই বলেও এতে উল্লেখ করা হয়। বাংলাদেশের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয় রয়েছে কক্সবাজারে। তারা মূলত রোহিঙ্গাদের প্রতিটা বিষয়ে নজর রাখছে। বিবিসিকে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেছেন, প্রতিটা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা শিশুদের অনানুষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মাহবুব আলম তালুকদার বলেছেন, হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে যে তথ্য দেয়া হয়েছে- সেটা একটা ‘মিথ্যাচার’। মাহবুব আলম তালুকদার বলেন, পুরনো দুটি রেজিস্ট্রার ক্যাম্পে বাংলাদেশের জাতীয় শিক্ষাক্রমের কাজ চলছে এবং সেখানে বাংলা কারিকুলাম ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে নতুন যেসব ক্যাম্প রয়েছে সেখানে তারা বাংলা কারিকুলাম ব্যবহার করছেন না। এর কারণ হিসেবে তিনি বলেছেন, ‘তারা (রোহিঙ্গারা) তো এক সময় ফিরে যাবে। তারা সেখানে গিয়ে যাতে তাদের স্কুলে আবার পড়াশোনা শুরু করতে পারে, সে কারণে বার্মিজ এবং ইংরেজি ভাষায় ক্যাম্পের মধ্যে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, এই লক্ষ্য কক্সবাজারের টেকনাফে অনেক আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় বেসরকারি সংস্থা কাজ করছে। প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, নতুন ক্যাম্পগুলোতে ইতিমধ্যে এক হাজার স্কুল পরিচালিত হচ্ছে। আরেকটি প্রকল্পের আওতায় আরো ৫০০ স্কুল পরিচালনা করা হবে। আর এই স্কুলগুলোতে বার্মিজ এবং ইংরেজি ভাষায় পড়ানো হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তাদেরকে বাংলা ভাষায় পড়িয়ে তো কোনও লাভ নেই। কারণ তাদের ফিরতে হবে এবং সেখানে (মিয়ানমারে) স্কুলে যাতে আবার পড়তে পারে, সেটা চিন্তা করে আমরা এমন পরিকল্পনা নিয়েছি।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading