১৩ কোটি টাকার কাজ নিয়ে ফোনালাপ ফাঁস
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪৪
ভিপি নুরের কুশপুত্তলিকা দাহ কক্ষে তালা পদত্যাগের দাবিতে মানববন্ধন
নুরের একটি ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় গতকাল বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে ডাকসু ভবনের সামনে অধ্যাপক ড. আ ক ম জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ মানববন্ধন হয়। পরে ভিপি নুরের কক্ষে তালা দিয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় নুরের পদত্যাগ দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময় বেধে দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের নেতারা বলেন, ডাকসুর ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা নজিরবিহীন। তাই আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নুরকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও ডাকসু থেকে বহিষ্কার করতে হবে। অন্যথায় ভিসিকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। একইসঙ্গে ভিপি পদ থেকে পদত্যাগ করতে নুরকেও ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে ফাঁস করা হয় ভিপি নুরের একটি ফোনালাপের অডিওক্লিপ। এরপর আরো কয়েকটি ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন অনলাইনে বিষয়টি প্রচারিত হয়। এরইমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিপি নুরের সেই অডিওক্লিপটি ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে নুরের সমালোচনায় মেতে ওঠেন অনেকে। ফোনালাপের একটি কণ্ঠ যে তারই তা ইতিমধ্যে স্বীকার করেছেন ভিপি নুর। তবে টেলিভিশন চ্যানেলটি উদেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার ফোনালাপকে আংশিক প্রচার করে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ডাকসুর ভিপি। বিষয়টির ব্যাখ্যা দিতে ভিপি নুর মঙ্গলবার রাতেই ফেসবুক লাইভে আসেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ‘আমার একটি ফোনালাপ ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমার পুরোপুরি কথা না শুনিয়ে এর আংশিক প্রচার করা হয়েছে। এট সাংবাদিকতার নীতি বিরুদ্ধ। আমি এর বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদলিপি ও উকিল নোটিশ পাঠাব। টেলিভিশন চ্যানেলটি ফোনালাপের আংশিক তথ্য তুলে ধরেছে। ওখানে কিন্তু ক্লিয়ার করা নেই যে, আমি কাউকে কাজের কথা বলছি বা কারো কাছে কাজ চাচ্ছি বা কাউকে সুপারিশ করছি। এমনভাবে সাজিয়ে গুছিয়ে তারা অডিওক্লিপটি প্রচার করেছে যেন বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।’ ওই ব্যক্তির কাছে তিনি কী বিষয়ে সাহায্য চেয়েছেন তা লাইভে জানান ভিপি নুর। তিনি বলেন, আমার এক আন্টি আগে থেকেই কন্সট্রাকশনের বিজনেস করেন। তার একটি প্রকল্পে ১৩ কোটি টাকার কাজ ছিল। কাজটির জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি দেয়ার লাস্ট তারিখের আগের দিন আন্টি আমাকে ফোন দেন। এসময় তিনি পরিচিত কারো মাধ্যমে যাদের লাইসেন্স আছে, তাদের মাধ্যমে যেন ব্যাংক গ্যারান্টার করে রাখি। শেষ দিন হওয়ায় আমি আমার পরিচিত এক কন্ডাক্টরকে কাজটি করতে পারবে কি-না সেটা জিজ্ঞেস করি। এটাই ছিল ফোনালাপ। এদিকে ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনায় ভিপি নুরুল হক নুরের বহিষ্কারের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের উপদেষ্টা অধ্যাপক মোজাম্মেল হক। মঙ্গলবার রাতে ফেসবুক লাইভে ঢাবি উপাচার্যের প্রতি এই আহ্বান জানান তিনি। এসময় ওই শিক্ষক আরও বলেন, মিস্টার নুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। তাকে প্রতিরোধ করা হবে। তাকে গ্রেফতার করা না হলে সারাদেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন চালানো হবে।
ফাঁস হওয়া অডিওতে ভিপি নুরকে জনৈক এক ব্যক্তির সঙ্গে ব্যবসায়িক কথাবার্তা বলতে শোনা গেছে। এছাড়া প্রবাসে এক বাংলাদেশির সঙ্গে টেলিফোনে টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে তাকে। অডিওতে আরও বলতে শোনা গেছে, ওই ব্যক্তি ভিপি নুরকে ইমেইল অ্যাড্রেসসহ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট নম্বর পাঠাতে বলেছেন। টাকা নেওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, একজন লোক আমাকে বলছিল যে, কিছু টাকা পয়সা দিয়ে হেল্প করবে। এখন আমি ডাকসুর ভিপি, ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক, আমার ফোন নম্বর অসংখ্য মানুষের কাছে আছে। এখন ছাত্রলীগের কিংবা কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকে ফোন দিয়ে বলতে পারে, ‘ভাই আমি আপনাকে হেল্প করবো পাঁচ কোটি টাকা দোবো’। কিন্তু সেখানে আমার রিপ্লাই কী ছিল, সেটা আপনাদের শুনতে হবে। সে হিসেবে একজন প্রবাসী লোক আমাকে ফোন দিয়ে বলছে, আমাকে হেল্প করতে চায়। তখন আমি বলেছি অপরিচিত লোকের কাছ থেকে আমি হেল্প নেবো না। এখানে আমরা কিন্তু তার কাছ থেকে কোনও আর্থিক সুবিধা নেইনি। আমি জানি যে, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা মানুষের বেডরুম পর্যন্ত নজরদারি। সুতরাং আমরা নরমাল কথা বলবো।’ এসময় ভিপি নুর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমি শুধু ব্যাংক গ্যারান্টির জন্য আমার পরিচিত একজনের সঙ্গে কথা বলেছি। এখানে কোনও অন্যায় হয়নি, অনিয়ম হয়নি। একজন লোক বলেছে হেল্প করবে, আমরা তো চাইনি তার কাছে। সুতরাং আমি যদি দোষী হই, পূর্ণাঙ্গ ফোনালাপ ফাঁস করতে হবে। সেখানে যদি আমার বিরুদ্ধে অপ্রীতিকর কিছু থাকে, তা নিয়ে নিউজ করতে পারেন। কিন্তু গণমাধ্যমে পুরো বিষয় সম্পর্কে ধারণা না দিয়ে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার কেন করলো, সেটা আমার বোধগম্য নয়। এটা এক ধরনের হলুদ সাংবাদিকতা।

