শীতের সবজিতে লাভবান কৃষক
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:৪২
নীলফামারীতে শীতকালীন শাক-সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার সবজির ফলন ভালো হয়েছে। পাশাপাশি, বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে বেজায় খুশি চাষিরা। শীত মৌসুমে পাঁচ হাজার ৮২৪ হেক্টর জমির বিপরীতে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার ৭৯৮ মেট্রিক টন শীতকালীন সবজি আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের সবজি চাষি দুলাল চন্দ্র রায় বলেন, দুই বিঘা জমিতে ফুলকপি ও বাঁধাকপির চাষ করেছি। এতে বিঘা প্রতি হাল চাষ, চারা উত্পাদন, সার, সেচ, নিড়ানি ও পরিবহন খরচ হয়েছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি কপির ফলন হবে প্রায় ৬০-৬৫ মণ। এখন প্রতি মণ কপি বাজারে বিক্রি হচ্ছে এক হাজার ৬০০ টাকা দরে। এতে খরচ বাদে কপি বিক্রি করে প্রায় ৯৪ হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান তিনি। একই এলাকার কপি চাষি কমলা ঠাকুর জানান, এবার এক বিঘা জমিতে ফুল কপির চাষ করেছেন তিনি। সেখানে তিন হাজার কপি রয়েছে। গড়ে প্রতি পিছ কপি এক কেজি হিসেবে ফলন হবে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ মণ। ৪০ টাকা কেজি হিসেবে এতে তার খরচ বাদে লাভ হবে প্রায় ৯০ হাজার টাকা। উপজেলাভিত্তিক শীতকালীন শাক-সবজির আবাদ হয়েছে সদরে ১ হাজার ৬২৪ হেক্টরের বিপরীতে ৩৫ হাজার ৭৮ মেট্রিক টন, ডোমারে ৯৬৫ হেক্টর জমির বিপরীতে সবজির আবাদ হয়েছে ২০ হাজার ৮৪৪ মেট্রিক টন, ডিমলায় ৭৮৫ হেক্টর জমির বিপরীতে ১৬ হাজার ৯৫৬ মেট্রিক টন, জলঢাকায় ৯২৫ হেক্টর জমির বিপরীতে সবজির চাষ হয়েছে ১৯ হাজার ৯৮০ মেট্রিক টন, কিশোরগঞ্জে ১ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে ২২ হাজার ১৪০ মেট্রিক টন ও সৈয়দপুরে ৫০০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ বা আবাদ হয়েছে ১০ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন। এরই মধ্যে জেলা শহরের প্রধান বাজারসহ সদরের স্থানীয় বাজারে এসব সবজির বিপুল সমাহার দেখা যায়। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নিখিল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, ‘এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষক বাজারে সন্তোষজনক দাম পেয়ে খুশি।’

