ধর্ষণ-খুনের ৪ আসামি ‘ক্রসফায়ারে’ ইন্ডিয়াজুড়ে তোলপাড়
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৪০
ইন্ডিয়ার হায়দ্রাবাদে এক তরুণী পশু চিকিত্সককে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত চার আসামির সবাই ‘ক্রসফায়ারে’ নিহত হয়েছেন। যে স্থান থেকে ওই চিকিত্সকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল, গতকাল শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে আটক চারজনকে ‘তদন্তের স্বার্থে’ সেখানে নিয়ে যাওয়া হয়। স্থানীয় পুলিশের দাবি, ঘটনাস্থল সাদনগর মহাসড়কে তাদের অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে দুপক্ষের সংঘর্ষের এক পর্যায়ে গুলিতে নিহত হয় অভিযুক্ত আসামিরা। তবে ইনকাউন্টার নিয়ে ইন্ডিয়াজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ব্যক্তি থেকে শুরু করে নানা মহলের বিশিষ্টজনরা এ ঘটনায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। আনন্দবাজার ও এনডিটিভির খবরে বলা হয়েছে, গত ২৭ নভেম্বর তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দ্রাবাদে পাওয়া যায় ২৭ বছর বয়সী এক নারী পশু চিকিত্সকের পুড়ে যাওয়া মরদেহ। তদন্ত শেষে পুলিশ জানায়, ওই তরুণীর স্কুটারের চাকা ফুটো করে দিয়েছিল ঘাতকরা। চাকা ঠিক করে দেওয়ার কথা বলে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেই স্কুটার। তারপর চারজন মিলে ধর্ষণ করেছিল তাকে। এরপর খুন করে পেট্রোল-ডিজেল ঢেলে পুড়িয়ে দিয়েছিল তরুণীর মরদেহ। ২৯ নভেম্বর অভিযুক্ত চারজনকেই গ্রেফতার করে তেলেঙ্গানা পুলিশ। গতকাল শুক্রবার হায়দ্রাবাদের পুলিশ কমিনশনার দাবি করেছেন, অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে চিকিত্সক ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার চার অভিযুক্ত নিহত হয়েছে। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা প্রকাশ রেড্ডি বলেছেন, ‘আমরা অ্যাম্বুলেন্স ডেকেছিলাম। তবে কোনও রকমের চিকিত্সা সহায়তা পৌঁছানোর আগেই তাদের মৃত্যু হয়।’ গত সপ্তাহে ভারতে বেশ কয়েকটি ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা সামনে এসেছে। ঝাড়খণ্ডে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়েছেন এক নারী আইনজীবী। ৫ ডিসেম্বর নিজের দায়ের করা ধর্ষণ মামলার শুনানিতে আদালতে যাওয়ার পথে উত্তরপ্রদেশের উন্নাও-এর ওই নারীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয় অভিযুক্তরা। এছাড়া ধর্ষণের পর রাজস্থানে ছয় বছরের এক শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। ধর্ষণের পর হত্যার এসব ঘটনায় ফুঁসে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার থেকে শুরু করে ইন্ডিয়ান নারীবাদী সংগঠনসহ সচেতন মহল। দোষীদের বিচারের দাবিতে উত্তাল দিল্লি, বেঙ্গালুরু ও কলকাতাসহ বিভিন্ন শহর। ক্ষোভের ঝড় উঠেছে দেশটির পার্লামেন্টেও। বিক্ষোভকারীরা যৌন নিপীড়নের ঘটনায় দ্রুততম বিচার ও সাজার মেয়াদ বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন দেশটির রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা। তবে এনকাউন্টার নিয়ে ভিন্ন মত আছে তাদের মধ্যে। ইন্ডিয়ায় আইনরক্ষদের হাতে বিচারাধীন বন্দিদের হত্যাকেই শেষে কি বিচার ভেবে বসলেন দেশটির জনতা! আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, এদিন পুলিশকে লক্ষ্য করে পুষ্পবৃষ্টি হয়েছে। তবে অনেকরই প্রশ্ন, গোটা ঘটনায় কি বিচারব্যবস্থার অস্তিত্বকেই চ্যালেঞ্জ করা হচ্ছে না? এদিন ভোররাতে তেলঙ্গানা পুলিশের সঙ্গে এনকাইন্টারে নিহত হয় হায়দরাবাদ গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডের চার অভিযুক্ত মুহম্মদ আরিফ (২৬), জল্লু শিবা (২০), জল্লু নবীন (২০) এবং চিন্তকুন্ত চেন্নাকেশভুলু (২০)। এর আগে গত ২৭ নভেম্বর রাতে হায়দরাবাদ শহরের অদূরে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। ওই ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, গণধর্ষণ এবং খুনে অভিযুক্ত চারজনকে কড়া প্রহরায় সামসাবাদের ৪৪ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে আন্ডারপাসে নিয়ে যাচ্ছিল পুলিশ। পুলিশের উদ্দেশ্য ছিল ঘটনার পুনর্নিমাণ করা। পুলিশের দাবি, ওই সময়ই অভিযুক্ত চারজন পালানোর চেষ্টা করে। পুলিশের অস্ত্র কেড়ে গুলি চালানোরও চেষ্টা করে অভিযুক্তরা। আত্মরক্ষার স্বার্থে বাধ্য হয়ে গুলি ছোড়ে পুলিশ। ঘটনায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার থাকা ৪ অভিযুক্তের।
‘ক্ষতের উপর মলম’: যেন ক্ষতের ওপর মলম লাগল। পুলিশি এনকাউন্টারে হায়দরাবাদ গণধর্ষণ-খুন কাণ্ডের চার অভিযুক্তের নিহত হওয়ার খবর শুনে বললেন নির্ভয়ার ঘটনার শিকার জ্যোতির মা আশা দেবী। তার কথায়, ‘পুলিশ যে ওদের এভাবে শাস্তি দিয়েছে, তাতে আমি অত্যত আনন্দিত। পুলিশকর্মীরা খুব ভালো করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে যাতে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, সে দাবি জানাচ্ছি।’ শুক্রবার সকালে ওই খবর শোনার পর আশা দেবী জানান, ২০১২ সাল থেকে ওই ক্ষতের আঘাত বয়ে চলেছেন। এদিন অভিযুক্তদের নিহত হওয়ার খবর শোনার পর তিনি বলেন, ‘অন্তত একজন মেয়ে সুবিচার পেল। পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই। সাত বছর ধরে চিত্কার করে চলেছি, আইন ভেঙে হলেও অপরাধীদের শাস্তি দিন। তার পর দেখুন, সমাজে ভালোর জন্য বদল ঘটবে।’
২০১২ সালে ১৬ ডিসেম্বরের রাতে নয়াদিল্লিতে গণধর্ষণ করে খুন করা হয় আশা দেবীর মেয়ে জ্যোতি সিংহকে। ওই ঘটনায় গোটা দেশ উত্তাল হয়। প্রাথমিকভাবে জ্যোতি সিংহের নাম গোপন রাখা হলে তিনি নির্ভয়া নামে পরিচিতি পান। মামলা চলাকালীন মেয়ের নাম প্রকাশ করেন নির্যাতিতার মা আশা দেবী। এদিন তিনি জানান, ২০১২-র ঘটনার পর সাত বছর কেটে গেলেও সুবিচার পাননি তিনি। দোষীদের ফাঁসির দাবিতে গত সাত বছর ধরেই কী না করেছেন। তার কথায়, ‘সুবিচারের আশায় এখনও আমি আদালতের চক্কর কেটে চলেছি। ১৩ ডিসেম্বর আরও একটা তারিখ পেয়েছি, যখন আমাকে ফের কোর্টে যেতে হবে। বিচার ব্যবস্থা তথা সরকারের কাছে আবেদন করছি, যাতে নির্ভয়ার দোষীদের দ্রুত ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।’ আশা দেবী জানিয়েছেন, হায়দরাবাদের নিহত তরুণী যে সুবিচার পেয়েছেন, তাতে স্বস্তি পেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ‘ওই মেয়েটির মা-বাবা এ কথা ভেবে নিশ্চয়ই স্বস্তি পেয়েছেন যে, তাঁদের মেয়ের আত্মার প্রতি সুবিচার হয়েছে।’ আশা দেবীর মতে, ‘এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ যারা করে, এর পর তাদের মধ্যে একটা ভয় তৈরি হবে।’ পুলিশি এনকাউন্টারে গণধর্ষণ ও খুনে অভিযুক্তদের নিহত হওয়ার ঘটনা শোনার পর নিজের স্বস্তি চেপে রাখতে পারেননি নির্যাতিতার বাবা। তার মতে, এই ঘটনার পর মেয়ের আত্মা শান্তি পেল। তিনি বলেন, ‘দশ দিন হলো আমার মেয়ে মারা গিয়েছে। পুলিশ এবং সরকারকে কৃতজ্ঞতা জানাই। মেয়ের আত্মা এখন অবশ্যই শান্তি পেয়েছে।’ তবে নির্যাতিতার বাবা অথবা নির্ভয়ার মায়ের সঙ্গে সহমত নন অনেকেই। এই ঘটনার পর পুলিশের নিন্দা করে বিজেপি সাংসদ মেনকা গান্ধী বলেন, ‘যা হয়েছে তা এই দেশের জন্য ভয়ানক।… চাইলেই যাকে খুশি এভাবে মারতে পারেন না আপনি। আইন হাতে তুলে নিতে পারেন না। আদালতে তো ওদের (অভিযুক্তদের) ফাঁসিই হত।’ তবে মেনকা গান্ধীর দলেরই আর এক সাংসদ অবশ্য তার বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করেছেন। হুগলি লোকসভা কেন্দ্রে বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের মতে, ‘এতে মেয়েটির আত্মা শান্তি পেয়েছে। এত বড় ও জঘন্য ঘটনার পর ওরা পালানোর চেষ্টা করেছে। তাতে এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে। আমি পুলিশকে ধন্যবাদ জানাই।’ যদিও লকেট চট্টোপাধ্যায় মতোই পুলিশি তত্পরতার প্রশংসা করলেও গোটা বিষয়টি যে তদন্তসাপেক্ষ সে কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রধান রেখা শর্মা। তার কথায়, ‘পুলিশের ভালো সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এটা তো তদন্তাধীন বিষয়। বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে অপরাধীদের শাস্তি চেয়েছিলাম। তবে ঘটনার সময় যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ তা তারিফযোগ্য।’ রেখা শর্মার মতোই সাবধানী মন্তব্য কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার গৌতমমোহন চক্রবর্তীর। তিনি বলেন, ‘অভিযুক্তরা যদি পালানোর চেষ্টা করে এবং পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি করে, তা হলে ঠিকই আছে। তবে এই মুহূর্তে ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে, তেমন ভাবেই দেখা উচিত। কারণ এর পর তো গোটা ঘটনার ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত হবে।’ তেলঙ্গানা পুলিশের প্রশংসা করেছেন বিজেপি নেত্রী উমা ভারতী। তার মতে, ‘যে সমস্ত পুলিশকর্মী এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের সকলেই প্রশংসার যোগ্য। আমি নিশ্চিত অন্য রাজ্যের পুলিশও এমন কোনও উপায় বার করবেন, যাতে অপরাধীদের উচিত শিক্ষা মেলে।’ পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, ‘এভাবে আইন হাতে তুলে নেওয়া যায় না। দ্রুত চার্জশিট দিয়ে অভিযুক্তদের শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।’ সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘বিচারব্যবস্থার বাইরে গিয়ে খুনের ঘটনা কখনও মহিলাদের সুরক্ষা প্রশ্নের সমাধান হতে পারে না।’ একই সুর শোনা গিয়েছে সাহিত্যিক তসলিমা নাসরিনের কথায়। তিনি বলেন, ‘অপরাধীদের মেরে ফেলাটা সোজা। তবে মানুষকে এমনভাবে শিক্ষিত করা উচিত, যাতে তারা কখনই অপরাধী হয়ে উঠবেন না। এটা একেবারেই সোজা নয়। আমরা সোজা পন্থাটাই পছন্দ করি।’ লোকসভার সাংসদ ও কংগ্রেস নেতা শশী তারুরের মতে, গোটা ঘটনাটি আরও স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘নীতিগতভাবে একে সমর্থন করছি। তবে বিষয়টি আরও জানা প্রয়োজন। বিচার ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে খুন সামাজিক আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।’
তারকাদের প্রতিক্রিয়া: শুক্রবার সকাল থেকেই তেলেঙ্গনা পুলিশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ইন্ডিয়ান সাধারণ থেকে সেলেবরা। সবার মুখে একটাই কথা, ‘সাবাস! তেলঙ্গানা পুলিশ’। প্রশ্ন উঠেছে, সংশয় জাগছে না তাদের মনে? অত ভোরে পুলিশ বাহিনীর হাত থেকে কীভাবে ধৃতরা পালিয়ে গেল- তা নিয়ে প্রশ্ন রেখেছেন অভিনেতা প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায়। তবে পুলিশের জয়গানের দিকেই পাল্লা ভারী। সোশ্যাল মিডিয়ায় সকালবেলা এনকাউন্টারের খবরটা ছড়িয়ে পড়তেই কমেন্ট বক্সে স্বস্তির নিশ্বাস। বলি-টলি সেলেবরাও পুলিশের তারিফে উচ্চকিত। সকালবেলাতেই ঋষি কাপূর তার টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে লেখেন, ‘সাবাশ! তেলঙ্গানা পুলিশ। অনেক শুভেচ্ছা।’ একই সুর শোনা গেল অনুপম খেরের গলাতেও। তিনি টুইটারে লেখেন, ‘যারা এ রকম জঘন্য অপরাধীদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিলেন তারা আজ সবাই আমার সঙ্গে এক সুরে বলুন ‘জয় হো’। টলিউড অভিনেতা দেবের মতে, এটাই দরকার ছিল। পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনিও। অন্যদিকে নুসরত জাহান লিখেছেন, ‘অবশেষে…বিচার/ আইন বিভাগের কাউকে তো বিচার পাইয়ে দিতে হবে। অবশেষে আওয়াজ উঠেছে। অপরাধীদের বাঁচার কোনও অধিকার নেই।’ প্রসেনজিত্ চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘অত ভোরে পুলিশবাহিনীর হাত থেকে কীভাবে ধৃতরা পালিয়ে গেল? সেটা নিয়ে প্রশ্ন থাকছে। তবে, পুলিশ যা করেছে তা প্রশংসার যোগ্য।’ অভিনেত্রী এবং একইসঙ্গে বিজেপি নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের ভাষায়, ‘এত বড় ঘটনার পরেও দোষীরা পালানোর চেষ্টা করেছে, এটা ভেবেই অবাক লাগছে। ধন্যবাদ জানাই হায়দরাবাদ পুলিশকে।’ যদিও লেখক সাংবাদিক বীর সাংভি লিখেছেন, ‘ধর্ষকদের জন্য এক ফোঁটা চোখের জলও নয়। তবে আমি চিন্তিত এঁরাই যে ধর্ষক সে বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত কী করে হচ্ছি আমরা? শুধুমাত্র পুলিশ বলেছে বলে? দ্বিতীয়ত, যদি এ রকম হত্যাকে আমরা প্রশংসা করি- তবে পরবর্তীকালে পুলিশতো যাকে খুশি তাকেই হত্যা করার ছাড়পত্র পেয়ে যাবে।’

