উইঘু ইস্যুতে মার্কিন বিল, চটেছে চীন
উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১১:০৮
চীনে উইঘুর মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় মার্কিন পার্লামেন্টে বিল পাস হওয়ায় চরম ক্ষুব্ধ হয়েছে বেইজিং। চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন। একইসঙ্গে এ ঘটনাকে চীনের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে স্পষ্ট হস্তক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে দেশটি। গতকাল সোমবার বেইজিংয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে চীনের এমন অবস্থানের কথা জানান জিনজিয়াং প্রদেশে সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত গভর্নর শোহরাত জাকির। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমানের বাস। জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশই উইঘুর মুসলিম। এই প্রদেশটি তিব্বতের মতো স্বশাসিত একটি অঞ্চল। বিদেশি মিডিয়ার সেখানে প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে বেইজিং। জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও অ্যাক্টিভিস্টরা দীর্ঘদিন থেকেই বলে আসছেন, জিনজিয়াং-এর বিভিন্ন বন্দিশিবিরে অন্তত ১০ লাখ মুসলিমকে আটক করে রেখেছে চীন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে চীন বরাবরই মুসলিমদের গণগ্রেফতারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। উইঘুর নির্যাতন নিয়ে মার্কিন পার্লামেন্টে বিল উত্থাপন করাকে নোংরা প্রচারণা হিসেবেও আখ্যায়িত করেন এই চীনা কর্মকর্তা। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবিরোধী নীতির সঙ্গে উইঘুর মুসলিমদের ব্যাপারে চীনা নীতির কোনও পার্থক্য নেই। শোহরাত জাকির বলেন, যুক্তরাষ্ট্র জিনজিয়াং-এর সামাজিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে চোখ বন্ধ রাখার নীতি বেছে নিয়েছে। তারা এ অঞ্চলের বিরুদ্ধে একটি তীব্র অভিযান চালাচ্ছে এবং চীনের জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে মতবিরোধের বীজ বপনের জন্য এ বিষয়গুলো ব্যবহার করছে।

