বাংলাদেশে শতভাগ মানুষ বায়ুদূষণের শিকার! বাড়ছে রোগ ও মৃত্যুর হার

বাংলাদেশে শতভাগ মানুষ বায়ুদূষণের শিকার! বাড়ছে রোগ ও মৃত্যুর হার

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩২

দেশে বাড়ছে পরিবেশ দুষণ। বায়ু, পানি, নদী, প্রকৃতির প্রতিটি অনুষঙ্গেই যুক্ত হচ্ছে দুষণ। মাত্রা বাড়ছে প্রতিনিয়ত, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রাণ ও প্রকৃতিতে। খাবারে মিশছে বিষ। নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। কয়েক মাস ধরে চরম বায়ুদূষণে আক্রান্ত রাজধানী শহর ঢাকা। গত ২৫ নভেম্বর বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহরটি ছিল ঢাকা। দ্য স্টেট অব গ্লোবাল এয়ার, ২০১৯ এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশের শতভাগ মানুষ বায়ুদূষণের মধ্যে বাস করে। আর ২০১৭ সালে সোয়া এক লাখ মানুষ মারা গেছে বায়ুদূষণে। কেন দুষণ বাড়ছে- তা সবার জানা থাকলেও প্রতিকার নেই। দখল ও দূষণের শিকার হচ্ছে নদী, খাল, বিল। সেখানে মিশছে বিষাক্ত কেমিকেলসহ নানা বর্জ্য। এ পানি ব্যবহার করে ফলানো ফসলে মিশছে বিষ, মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণিও হয়ে পড়ছে বিষাক্ত। যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে মানুষের ওপর। পরিবেশ দূষণের তোয়াক্কা না করেই চলছে সরকারি-বেসরকারি উন্নয়ন কর্মকাণ্ড। গাছপালা, আর জলাধার ধ্বংস করে গড়ে উঠছে বড় বড় অট্টলিকা, ফ্লাইওভার, মেট্রোরেল। আর তাতেই ধুলিময় চারপাশ। আর রাজধানীর চারপাশে গড়ে ওঠা ইটভাটা, শিল্প কারখানা, যানবাহন থেকেও ঘটছে বায়ুদূষণ।  পরিবেশ দূষণে সৃষ্টি হচ্ছে নানা রোগ: রাজধানীসহ আশপাশের মানুষের রোগবালাই বাড়ছে। বাড়ছে অ্যাজমা অ্যাটাক, বাড়ছে হার্টের অসুখ, হার্ট ফেইলিউর, রেসপিরেটরি ইনফেকশন, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস, ডায়াবেটিস আর ফুসফুস ক্যানসার। বছর বছর বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। বিশেষ করে চরম ক্ষতির মুখে শিশুরা। গাজীপুরে হঠাত্ করে ডায়রিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে এক নারীসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়। এদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯৪ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত হয়ে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। এ নিয়ে ৪দিনে এ হাসপাতালেই ভর্তি হয়েছে ৩ শতাধিক রোগী। এরমধ্যে চারজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজধানীর কলেরা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হঠাত্ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় চিকিত্সা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন নার্স ও চিকিত্সকরা। বিশুদ্ধ পানি পান ও নিয়ম মেনে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিত্সক ডাক্তার প্রণয় ভূষণ দাস জানান, বিরূপ আবহাওয়া ও খাবারের বিষক্রিয়ায় ডায়রিয়া বাড়ছে। এদিকে, রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ছোট দেওড়া, ছায়াবীথি, চান্দনাসহ নগরীর যেসব এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি, সেসব এলাকায় কাজ করছে ৬ সদস্যের টিম।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading