পুঁজিবাজারে বিনোয়াগকারীরা দিশেহারা

পুঁজিবাজারে বিনোয়াগকারীরা দিশেহারা

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩০

১০ দিনে মূলধন কমেছে ১৩ হাজার কোটি টাকা

চলতি ডিসেম্বর মাসে মাত্র ১০ কার্যদিবসের ব্যবধানে ১৩ হাজার কোটি টাকা মূলধান হারিয়েছে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সময়ে ডিএসই’র প্রধান সূচক কমেছে ২১৭ পয়েন্ট। সর্বশেষ গত ১২ ডিসেম্বর ডিএসইর প্রধান সূচকের অবস্থান ছিল ৪ হাজার ৫১৪ পয়েন্টে। এটি আগের ৪১ মাসের মধ্যে সূচকের সর্বনিম্ন অবস্থান। এর আগে, ২০১৬ সালের ১১ জুলাই ডিএসইর প্রধান সূচক ৪ হাজার ৫০৫ পয়েন্ট নেমেছিল। ওইদিনের পর গত বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) ছিল ডিএসইর প্রধান সূচক সর্বনিম্ন অবস্থানে। ডিএসই সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এদিকে পুঁজিবাজারে অব্যাহত দরপতনের কারণে প্রতিদিনই পুঁজি হারিয়ে নিঃস্ব থেকে নিঃস্ব হচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা। গত কয়েক মাস ধরে টানা দরপতনের পর মাঝে মাঝে দুই/এক দিন সূচক টেনে তুললেও তা ধরে রাখা যাচ্ছে না। প্রায় প্রতিনিদনই সূচকের পতন হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সব ধরনের বিনিয়োগকারী। পুঁজিবাজারে দরপতন প্রসঙ্গে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘ব্যাংক ও আর্থিক খাতের অবস্থা ভালো না থাকায় পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে, অধিকাংশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত। কিন্তু বর্তমানে অধিকাংশ ব্যাংক নানা সংকটে রয়েছে। এ সংকটের অন্যতম কারণ হলো খেলাপি ঋণ। খেলাপি ঋণের কারণে সরকারি-বেসরকারি অনেক ব্যাংক মূলধন সংকটের মুখে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে বের হতে না পারলে পুঁজিবাজারের সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। অন্যদিকে পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ‘পুঁজিবাজারে বর্তমানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো আস্থার সংকট। এই সংকটের কারণে বাজারে নতুন বিনিয়োগকারী তেমন আসছে না। আবার পুরনো বিনিয়োগকারীরাও লোকসানের কারণে শেয়ার লেনদেন করতে পারছে না। ফলে প্রতিদিনই সূচকের পাশাপাশি কমছে লেনদেন। আর শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় বাজার মূলধনও কমে যাচ্ছে।’ অর্থনীতিবিদ আবু আহমেদ বলেন, ‘সম্প্রতি ব্যাংকখাতে খেলাপি ঋণ আরও বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দিয়েছে। এই অবস্থায় পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকের শেয়ারের দরপতন বেড়ে গেছে। যার প্রভাব পুরো পুঁজিবাজারে পড়ছে।’ ডিসেম্বর মাসে লেনদেন হওয়া ১০ দিনের বাজার চিত্র: চলতি ডিসেম্বর মাসে লেনদেন হওয়া ১০ দিনে ডিএসই‘র বাজার মূলধন কমেছে ১৩ হাজার ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চলতি মাসের ১ তারিখে লেনদেন শুরুতে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৭০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে গত ১২ ডিসেম্বর সর্বশেষ লেনদেন দিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন নেমে আসে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৬৯৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এদিকে চলতি মাসে মাত্র ১০ দিনে বাজার মূলধনের পাশাপাশি সূচকে বড় পতন হয়েছে। এ সময়ে ডিএসইর প্রধান সূচক ৪ হাজার ৭৩১ পয়েন্ট থেকে ২১৭ পয়েন্ট কমে ৪ হাজার ৫১৪ পয়েন্টে৫ নেমে আসে। ডিসেম্বর মাসে লেনদেন হওয়া ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচদিন শেয়ারের দাম কমেছে এবং বিপরীতে বেড়েছেও পাঁচদিন। তবে পাঁচদিন পতনের মাত্রা ছিল ব্যাপক।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading