দারিদ্রের হার কমেছে পরিসংখ্যান ব্যুরো

দারিদ্রের হার কমেছে পরিসংখ্যান ব্যুরো

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৬

দারিদ্রের হার আরও কমেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)। সংস্থাটি বলছে, গত বছর ২১ দশমিক ৮ শতাংশ হলেও চলতি বছর তা ২০ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে হত দারিদ্রের হার ১১ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে নেমেছে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পলিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী। একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর সামনে দারিদ্রের নতুন এ হার প্রকাশ করেছে বিবিএস। এতে প্রধানমন্ত্রী ব্যাপক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পরিসংখ্যান ব্যুরোর খানা আয় ব্যয়ের জরিপ অনুযায়ী, ২০০০ সালে দারিদ্রের হার ছিল ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ২০০৫ সালে তা ৪০ শতাংশে ও ২০১০ সালে ৩১ দশমিক ৫ শতাংশে নেমে আসে। সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে এ হার দাঁড়ায় ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপরে নতুন করে জরিপ না হলেও জিডিপি প্রবৃদ্ধির ওপর ভিত্তি করে ২০১৭ সালে ২৩ দশমিক ১ শতাংশ ও ২০১৮ সালে ২১ দশমিক ৮ শতাংশ দারিদ্রের প্রাক্কলন করে বিবিএস। একনেকে ৯ প্রকল্প অনুমোদন : জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রায় ৩ হাজার ২২৬ কোটি ৭৫ লাখ টকা ব্যয় সম্বলতি ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এসব প্রকল্প ব্যয় সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) শেরে বাংলা নগর পরিকল্পনা কমিশনে এনইসি’র মিলনায়তনে প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান। একনেকের অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো- ১. প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ণ-৩ (নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন চরিশ্বর ইউনিয়নের ভাষানচরে) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকের আবাসন এবং ডিপের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। ২. খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যশষ্যের পুষ্টিমান নিশ্চিত করার লক্ষে প্রিমিক্স কার্নেল মেশিন ও ল্যাবরেটরি স্থাপন এবং অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প। ৩. তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন প্রকল্প।

৪. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আর্ম ফোর্সেস ইনস্টিটিউট অব প্যাথলজির সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প। ৫. সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প দিঘলিয়া, আড়ুয়া, গাজিরহাট ও তেরখাতা সড়কের প্রথম কিলোমিটারে ভৈরব নদীর ওপর ভৈরব সেতু নির্মাণ প্রকল্প। ৬. সিরাজগঞ্জ-গাজীপুর, ধুনট-শেরপুর এবং সিরাজগঞ্জ-ধুনট মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উত্তীর্ণকরণ প্রকল্প। ৭. রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মানোন্নয়ন প্রকল্প। ৮. রেলপথ মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের লেভেল ক্রসিং গেটসমূহের পুনর্বাসন ও মানোন্নয়ন প্রকল্প। ৯. গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবন, সংসদ সদস্য ভবন ও এমপি হোস্টেলের আনুষঙ্গিক স্থাপনার নির্মাণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্প। একনেক সভায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, পরিকল্পমন্ত্রী এম এ মান্নান, সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, এসএমই সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, গৃয়ায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম, পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাবুদ্দিন, ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading