সচিবালয় এলাকায় হর্ন ‘বাজছেই’!

সচিবালয় এলাকায় হর্ন ‘বাজছেই’!

উত্তরদক্ষিণ মুদ্রতি সংস্করন । ১৮ ডিসেম্বর ২০১৯ । প্রকাশ ০০:০১। আপডেট ১০:৩৪

বাংলাদেশ সচিবালয় এলাকায় হর্ন নিষিদ্ধের প্রথম দিন গতকাল মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) অন্যান্য দিনের মতোই হর্ন বাজাচ্ছিলেন গাড়িচালকরা। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হর্ন বাজানো গাড়ির তালিকায় সচিবালয়ে আসা সরকারি গাড়ি, বাস, প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকসা, মোটরসাইকেল সবই রয়েছে। তবে প্রথমদিন বলে এসব চালকের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ না করে নিষেধাজ্ঞা ও আইনে থাকা শাস্তির বিষয়ে তাদেরকে সতর্ক করছেন ট্রাফিক পুলিশ। গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সচিবালয়ের চারপাশ ঘুরে এচিত্র দেখা গেছে। এর আগে গত রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) সচিবালয়কে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণা করা হয়, যা কার্যকর হয় মঙ্গলবার থেকে। নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন এলাকার মধ্যে রয়েছে সচিবালয় সংলগ্ন জিরো পয়েন্ট, পল্টন মোড় ও সচিবালয় লিংক রোড হয়ে জিরো পয়েন্ট। এই এলাকায় চালকদের কোনও ধরনের হর্ন না বাজানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের প্রথম দিন গত (মঙ্গলবার) সকালে সচিবালয়ের আশপাশকে ‘নীরব এলাকা’ ঘোষণার কথা পুনরায় উল্লেখ করেন পরিবেশ ও বনমন্ত্রী মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সচিবালয়ের গেটে দাঁড়িয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সচিবালয়ের চতুর দিককে শব্দ দূষণমুক্ত এলাকা ঘোষণা করা হলো। আজ (মঙ্গলবার) থেকে আইনের বিধান কার্যকর হবে।’ আজ বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আইন অমান্যকারীকে প্রথমে একমাসের কারাদণ্ড  বা অনধিক পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। পরবর্তীতে একই অপরাধের জন্য অমান্যকারী ছয় মাসের কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত  হবেন।’ মন্ত্রী জানান, শুধু সচিবালয় নয়, ধারাবাহিকভাবে পুরো ঢাকাকে শব্দ দূষণমুক্ত করা হবে। সরেজমিনে সচিবালয়ের চারপাশের সড়কগুলো ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের মতোই অকারণে হর্ন বাজাচ্ছেন চালকরা। প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চালকদের বেশি হর্ন বাজাতে দেখা গেছে। বাস ও অন্যান্য যানবাহনের চালকদের হর্ন বাজানোর প্রবণতাও ছিল চোখে পড়ার মতো। নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চালকদের বেশিরভাগই হর্ন বাজানোর বিষয়টি অস্বীকার করেন।  প্রমাণ দেখানোর পর তারা বলেছেন, নিষেধাজ্ঞার কথা তাদের জানা ছিল না। শিক্ষা ভবন থেকে সচিবালয় লিংক রোডে প্রবেশ করছিল বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের একটি গাড়ি। লিংক রোডে প্রবেশের মোড়টি ফাঁকা ও দৃশ্যমান থাকা সত্ত্বেও একাধিকবার হর্ন বাজান চালক। এসময় তাকে আটকে দেন দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। নীরব এলাকায় কেন হর্ন বাজিয়েছেন জানতে চাইলে চালক অস্বীকার করেন। জেল জরিমানার কথা জানানোর পর তিনি বলেন, ‘এই এলাকায় যে হর্ন বাজানো নিষেধ, তা আমি জানি না।’  ভবিষ্যতে এই এলাকায় হর্ন না বাজানোর জন্য ওই চালককে সতর্ক করে গাড়িটি ছেড়ে দেওয়া হয়। প্রায় একই ধরনের অসংখ্য ঘটনা ঘটে এদিন। সচিবালয় লিংক রোডে দায়িত্ব পালন করছিলেন ডিএমপি শাহবাগ জোনের (ট্রাফিক) সহকারী কমিশনার মো. নূরুননবী। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমদিন কাউকে জরিমানা বা কারও বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগ করছি না। যারা হর্ন বাজাচ্ছেন তাদের সতর্ক করছি এবং আইনটি সম্পর্কে অবহিত করছি।’ তিনি বলেন, ‘সচিবালয়ে প্রতিদিন অসংখ্য নতুন নতুন গাড়ি আসে। ফলে শুধু সচিবালয় এলাকায় প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে ততটা সুফল পাওয়া যাবে না।  হর্ন-বিরোধী ক্যাম্পেইন সারাদেশেই চালাতে হবে। চালকদের পাশপাশি জনগণকেও হর্নের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।’

Md Enamul

Leave a Reply

Discover more from Daily Uttor Dokkhin উত্তরদক্ষিণ

Subscribe now to keep reading and get access to the full archive.

Continue reading